১.
অমলকান্তি আমার বন্ধু,
ইস্কুলে আমরা একসঙ্গে পড়তাম।
রোজ দেরি করে ক্লাসে আসত, পড়া পারত না,
শব্দরূপ জিজ্ঞেস করলে
এমন অবাক হয়ে জানলার দিকে তাকিয়ে থাকতো যে,
দেখে ভারী কষ্ট হত আমাদের।
আমরা কেউ মাষ্টার হতে চেয়েছিলাম, কেউ ডাক্তার, কেউ উকিল।
অমলকান্তি সে সব কিছু হতে চায়নি।
সে রোদ্দুর হতে চেয়েছিল !
ক্ষান্তবর্ষণ কাক-ডাকা বিকেলের সেই লাজুক রোদ্দুর,
জাম আর জামরূলের পাতায়
যা নাকি অল্প-একটু হাসির মতন লেগে থাকে।
আমরা কেউ মাষ্টার হয়েছি, কেউ ডাক্তার, কেউ উকিল।
অমলকান্তি রোদ্দুর হতে পারেনি।
সে এখন অন্ধকার একটা ছাপাখানায় কাজ করে।
মাঝে মধ্যে আমার সঙ্গে দেখা করতে আসে,
চা খায়, এটা ওটা গল্প করে, তারপর বলে, উঠি তা হলে'।
আমি ওকে দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে আসি।
আমাদের মধ্যে যে এখন মাষ্টারি করে,
অনায়াসে সে ডাক্তার হতে পারত,
যে ডাক্তার হতে চেয়েছিল,
উকিল হলে তার এমন কিছু ক্ষতি হত না।
অথচ, সকলেরই ইচ্ছাপূরণ হল, এক অমলকান্তি ছাড়া।
অমলকান্তি রোদ্দুর হতে পারেনি।
সেই অমলকান্তি - রোদ্দুরের কথা ভাবতে-ভাবতে
ভাবতে-ভাবতে
যে একদিন রোদ্দুর হতে চেয়েছিল।।
২.
অতটুকু চায়নি বালিকা!
অত শোভা, অত স্বাধীনতা!
চেয়েছিল আরো কিছু কম,
আয়নার দাঁড়ে দেহ মেলে দিয়ে
বসে থাকা সবটা দুপুর, চেয়েছিল
মা বকুক, বাবা তার বেদনা দেখুক!
অতটুকু চায়নি বালিকা!
অত হৈ রৈ লোক, অত ভীড়, অত সমাগম!
চেয়েছিল আরো কিছু কম!
একটি জলের খনি
তাকে দিক তৃষ্ণা এখনি, চেয়েছিল
একটি পুরুষ তাকে বলুক রমণী!
৩.
কখনোই কবিতাখোর ছিলাম না! বরং ছন্দে মেলানো সরসরে ছড়া পড়তেই ভালো লাগে বেশি। তবুও, হঠাৎ অছন্দিত দুয়েকটি কবিতা খুব বেশি ভালো লেগে যায়! একসঙ্গে সংরক্ষণের তাগিদে শেয়ার করলাম।
৪
প্রথমটির রচয়িতা নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী।
শিরোনাম ‘অমলকান্তি’।
দ্বিতীয়টির আবুল হাসান।
'নিঃসঙ্গতা'।
কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
শুক্রবার, ১৩ নভেম্বর, ২০০৯
বৃহস্পতিবার, ১২ নভেম্বর, ২০০৯
পথিক
যেই জন চলে যায়
সময় সিন্ধুর বুকে তার অন্তর্ধান
নিতান্ত রুটিন মাত্র যে যাবে সে যাবে
জন্ম মানে মৃত্যুদণ্ড
আজ কাল কিংবা পরে কার্যকর হবে
বন্ধুর মৃত্যুর জন্য শোক কেন তবে!
-------------------------------------
আহমেদ ছফা
-------------------------------------
বন্ধু অধ্যাপক নরেন বিশ্বাসের প্রয়ানপীড়িত ছফা এই কবিতা-টি লিখেছিলেন, সেদিনই। এটি এতটা-ই ছুঁয়ে গেলো যে, সংকলনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলাম!
-------------------------------------
তথ্যসুত্রঃ http://arts.bdnews24.com/?p=2485
সময় সিন্ধুর বুকে তার অন্তর্ধান
নিতান্ত রুটিন মাত্র যে যাবে সে যাবে
জন্ম মানে মৃত্যুদণ্ড
আজ কাল কিংবা পরে কার্যকর হবে
বন্ধুর মৃত্যুর জন্য শোক কেন তবে!
-------------------------------------
আহমেদ ছফা
-------------------------------------
বন্ধু অধ্যাপক নরেন বিশ্বাসের প্রয়ানপীড়িত ছফা এই কবিতা-টি লিখেছিলেন, সেদিনই। এটি এতটা-ই ছুঁয়ে গেলো যে, সংকলনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলাম!
-------------------------------------
তথ্যসুত্রঃ http://arts.bdnews24.com/?p=2485
হাসতে হাসতে মরে গেলাম!
১.
এই ব্লগে ‘হা হা প গে’ নামে একটা টার্ম প্রচলিত যার অর্থ কম বেশি হয়তো সবারই জানা! আরও আছে এ ধরণের। যেমন, “হা হা পে ...” ইয়ে আর কি! আচ্ছা? হাসতে হাসতে মরে গেলাম। নেই? আছে। বাস্তবেও আছে। নেটে খোঁচাখুঁচি করেও তা পেলাম।
২.
প্রাচীন গ্রীক দার্শনিক ক্রায়সিপাস খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকে তার গাধাকে ওয়াইন খেতে দেন এবং মাতলামোর ফলশ্রুতিতে সেটি-কে ডুমুর খেতে দেখে হাসতে হাসতে মারা যান!
আরাগনের প্রথম মার্টিন বদহজম ও অনিয়ন্ত্রিত হাসির কারণে মৃত্যুবরণ করেন। ঘটনা খ্রিস্টাব্দ ১৪১০ এর।
পিয়েট্রো আরেটিনো ১৫৫৬ সালে দেহ রাখেন। কারণ, বেশি হাসতে গিয়ে তার দম বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো।
বার্মার রাজা নন্দ বায়িন ১৫৯৯ সালে ইতালীর এক সওদাগরের কাছ থেকে একটা অদ্ভুত খবর শুনে হাসতে হাসতে মারা যান! খবরটা ছিলো, “ভেনিস একটা স্বাধীন রাস্ট্র, আর সেখান কোন রাজা নেই!”
দ্বিতীয় চার্লস এর সিংহাসন আরোহনের খবর পেয়ে স্কটিশ অভিজাত টমাস আরকুহার্ট হাসতে হাসতেই ইহলীলা সাঙ্গ করেন!
আগের লোকজন নিদারুণ বোকা ছিলো? তাই না?
এ যুগেও পিছিয়ে নেই! দেখা যাক।
১৯৭৫ সালে আলেক্স মিচেল জনপ্রিয় টিভি সিরিয়াল দেখে টানা ২৫ মিনিট হেসে অক্কা পান!
১৯৮৯ সালে ডেনমার্কের ওলে বেন্টজেন এর ‘আ ফিস কল্ড ওয়ান্ডা’ দেখতে গিয়ে হার্ট এটাক হয়। এ সময় তার হার্টবিট পৌছে প্রতি মিনিটে ২৫০ থেকে ৫০০!
কে জানে আরও আছে হয়তো উদাহরণ। এত অল্পেই ক্লান্ত হয়ে পড়লাম!
(এখানে ব্যবহৃত সকল তথ্যসুত্র উইকিপিডিয়া’র। অন্যগুলো ব্যবহারের ধৈর্য হলোনা! )
৩.
ইদানীং কেন জানি মৃত্যু নিয়ে বেশ পড়াশুনা করতে ইচ্ছা করছে। কিন্তু সময় পাচ্ছিনা।
"জীবন আমার এত ভালবাসি বলে, হয়েছে প্রত্যয় ... মৃত্যুরে এমনি ভালবাসিব নিশ্চয়!" - - - - কবিগুরু
৪.
একটা অদ্ভুত ছবি পেলাম নেটে। দেখতে পারেন- (দূর্বল হৃদয়ের না হলে)
http://en.wikipedia.org/wiki/Thich_Quang_Duc
১৯৬৩ সালে ভিয়েতনাম সরকার কর্তৃক প্রিস্টদের উপর দমননীতি’র প্রতিবাদে তিনি স্বেচ্ছায় আগুনে আত্মাহুতি দিয়েছিলেন। শোনা যায়, সেই সময় উনি একটুও নড়েন নি বা কোন শব্দও করেন নি!
৫.
ছোটবেলায় নিজ দায়িত্বে মুখস্ত করা একটি ছড়া--
“সেজ মামী এসে বলে
শোনরে অটল,
কাল রাতে মামা তোর
তুলেছে পটল।
অটু বলে, তার তরে
কাঁদো কেন মামী?
দাও গিয়ে বাজারেতে
বেচে আসি আমি।
বুঝিনা পটল কেন
তোলে মামা রাতে,
সাপ খোপ কামড়িয়ে
দিতে পারে হাতে!”
ছড়াটি কার মনে নেই!
৬.
তবুও, বাঁচতে হলে হাসতে হবে!
এই ব্লগে ‘হা হা প গে’ নামে একটা টার্ম প্রচলিত যার অর্থ কম বেশি হয়তো সবারই জানা! আরও আছে এ ধরণের। যেমন, “হা হা পে ...” ইয়ে আর কি! আচ্ছা? হাসতে হাসতে মরে গেলাম। নেই? আছে। বাস্তবেও আছে। নেটে খোঁচাখুঁচি করেও তা পেলাম।
২.
প্রাচীন গ্রীক দার্শনিক ক্রায়সিপাস খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকে তার গাধাকে ওয়াইন খেতে দেন এবং মাতলামোর ফলশ্রুতিতে সেটি-কে ডুমুর খেতে দেখে হাসতে হাসতে মারা যান!
আরাগনের প্রথম মার্টিন বদহজম ও অনিয়ন্ত্রিত হাসির কারণে মৃত্যুবরণ করেন। ঘটনা খ্রিস্টাব্দ ১৪১০ এর।
পিয়েট্রো আরেটিনো ১৫৫৬ সালে দেহ রাখেন। কারণ, বেশি হাসতে গিয়ে তার দম বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো।
বার্মার রাজা নন্দ বায়িন ১৫৯৯ সালে ইতালীর এক সওদাগরের কাছ থেকে একটা অদ্ভুত খবর শুনে হাসতে হাসতে মারা যান! খবরটা ছিলো, “ভেনিস একটা স্বাধীন রাস্ট্র, আর সেখান কোন রাজা নেই!”
দ্বিতীয় চার্লস এর সিংহাসন আরোহনের খবর পেয়ে স্কটিশ অভিজাত টমাস আরকুহার্ট হাসতে হাসতেই ইহলীলা সাঙ্গ করেন!
আগের লোকজন নিদারুণ বোকা ছিলো? তাই না?
এ যুগেও পিছিয়ে নেই! দেখা যাক।
১৯৭৫ সালে আলেক্স মিচেল জনপ্রিয় টিভি সিরিয়াল দেখে টানা ২৫ মিনিট হেসে অক্কা পান!
১৯৮৯ সালে ডেনমার্কের ওলে বেন্টজেন এর ‘আ ফিস কল্ড ওয়ান্ডা’ দেখতে গিয়ে হার্ট এটাক হয়। এ সময় তার হার্টবিট পৌছে প্রতি মিনিটে ২৫০ থেকে ৫০০!
কে জানে আরও আছে হয়তো উদাহরণ। এত অল্পেই ক্লান্ত হয়ে পড়লাম!
(এখানে ব্যবহৃত সকল তথ্যসুত্র উইকিপিডিয়া’র। অন্যগুলো ব্যবহারের ধৈর্য হলোনা! )
৩.
ইদানীং কেন জানি মৃত্যু নিয়ে বেশ পড়াশুনা করতে ইচ্ছা করছে। কিন্তু সময় পাচ্ছিনা।
"জীবন আমার এত ভালবাসি বলে, হয়েছে প্রত্যয় ... মৃত্যুরে এমনি ভালবাসিব নিশ্চয়!" - - - - কবিগুরু
৪.
একটা অদ্ভুত ছবি পেলাম নেটে। দেখতে পারেন- (দূর্বল হৃদয়ের না হলে)
http://en.wikipedia.org/wiki/Thich_Quang_Duc
১৯৬৩ সালে ভিয়েতনাম সরকার কর্তৃক প্রিস্টদের উপর দমননীতি’র প্রতিবাদে তিনি স্বেচ্ছায় আগুনে আত্মাহুতি দিয়েছিলেন। শোনা যায়, সেই সময় উনি একটুও নড়েন নি বা কোন শব্দও করেন নি!
৫.
ছোটবেলায় নিজ দায়িত্বে মুখস্ত করা একটি ছড়া--
“সেজ মামী এসে বলে
শোনরে অটল,
কাল রাতে মামা তোর
তুলেছে পটল।
অটু বলে, তার তরে
কাঁদো কেন মামী?
দাও গিয়ে বাজারেতে
বেচে আসি আমি।
বুঝিনা পটল কেন
তোলে মামা রাতে,
সাপ খোপ কামড়িয়ে
দিতে পারে হাতে!”
ছড়াটি কার মনে নেই!
৬.
তবুও, বাঁচতে হলে হাসতে হবে!
বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০০৯
আসুন, পুরনো একটা ওয়াজ শুনি, নতুন করে...
ওয়াজঃ
ঈমানী জোশ আর জেল্লায় হুজুর তার গলার টোন সপ্তসুরে তোলেন- উত্তেজনায় পায়ের বুড়ো আঙ্গুলে ভর দিয়ে উঁচু হয়ে বলেন, “আল্লাহর কী রহমত! আল্লাহপাক আমেরিকারে আমাদের পায়ের তলায় রাখছেন। সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ! মাশাআল্লাহ!! এভাবেই আমেরিকার লোকজন আজীবন আমাদের পায়ের নিচেই থাকবে। সবাই বলেন, আমীন!”
“আ-মী--ন!” সমস্বরে হাঁক ওঠে!
(বদ্ধ ঘরের সজোরে আওয়াজে হয়তো আকাশ বাতাস কাঁপেনা। যদি পলেস্তরার প্রাণ থাকতো, ইটের সঙ্গে তার প্রথাগত সখ্যের অকাল মৃত্যু ঘটতো!)
তরজমাঃ
ভূ-গোলকীয় অবস্থানে বাংলাদেশের প্রায় মধ্যখান দিয়ে গেছে ৯০ ডিগ্রী পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা। আর বিশাল দেশ আমেরিকার মধ্যে কোন এক খানে ছেদ করেছে ৯০ ডিগ্রী পশ্চিম দ্রাঘিমার কল্পিত রেখা। পৃথিবী গোলকের অবস্থান হিসাবে যেটি বাংলাদেশ একদম উল্টোদিকে।
বিজ্ঞান বলে, মানুষের বাস পৃথিবী পৃষ্ঠে। সেই হিসেবে আমেরিকানরা ঠিক আমাদের পায়ের নিচেই থাকে সবসময়।
শাস্ত্রে বলে, মিথ্যে বলা মহাপাপ।
হুজুর তো মিথ্যে বলেননি।
ঝড়ে বক মরে, ফকিরের কেরামতি বাড়ে।
(তাহলে, আমরা নিজেরা আমেরিকানদের সাপেক্ষে কোথায় আছি, সাধু?)
শানে নুজুলঃ
ছাপোষা কর্মচারী হিসাবে দেখছি, শুনছি -- অফিসের নতুন একটি সিস্টার কনসার্ন খোলা হচ্ছে। বেশ লাভের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে শুরুর আগেই। নতুন ফ্লোর নেয়া হলো এজন্য। ইমাম ডেকে মিলাদ পড়ানো হলো। এ উপলক্ষ্যে উচ্চপদস্থদের অনেককেই প্রথমবারের মত টুপিতে সয়লাব হতে দেখে ‘কেমন জানি’ লাগলো! নামাজে যাবার কারণে নামাযীদেরকে টিটকারীও শুনতে হয়েছে বেশ ক’বার এঁদের কাছ থেকেই!
নামাযের চেয়ে মিলাদের প্রয়োজনীয়তাই ‘হয়তো’ বেশি জরুরী।
একটি প্রভাবশালী পত্রিকা ধর্মের অনেক মৌলিক বিষয়ের উপর ‘তর্কের খাতির তর্কের’ মত কটাক্ষ প্রকাশ করে। কিন্তু দেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে থাকা ‘অপ্রমানিত’ ও বিচিত্র আচারে আচরিত ‘মাজার’ রক্ষায় তাদের গলার স্বর খুবই জোরালো। ধুঁয়াটা তখন ওঠে প্রত্বতত্তের! মূলটা আসলে কোথায়?
সম্ভবত নজরুলের একটা কবিতার লাইন আছে, প্রায় সম্পূর্ণ ভুলভাবে সেটি খেয়াল আছে... শুধু ভাবটা...
“জিলাপি অর্ধেক বাঁচিয়া গিয়াছে, হুজুর তাই হাসিয়াই কুটি কুটি...”
কেউ কি পুরো কবিতাটি আমাকে দিতে পারবেন? ভুলটা সংশোধন করে নিতাম!
আর, পুরনো অথচ চমৎকার একটা পোস্ট পড়লাম একটু আগে। Click This Link
-------------------------------------------------
রাতমজুর ভাইয়ের সৌজন্যে কবিতার সঠিক অংশটুকুঃ
-------------------------------------------------
মানুষ- নজরুল ইসলাম
গাহি সাম্যের গান-
মানুষের চেয়ে কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান,
নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্মজাতি,
সব দেশে, সল কালে, ঘরে-ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি।
‘পূজারী, দুয়ার খোল,
ক্ষুদার ঠাকুর দাঁড়ায়ে দুয়ারে পূজার সময় হলো!’
স্বপ্ন দেখিয়া আকুল পূজারী খুলিল ভজনালয়
দেবতার বরে আজ রাজা-টাজা হ’য়ে যাবে নিশ্চয়!
জীর্ণ-বস্ত্র শীর্ণ-গাত্র, ক্ষুদায় কন্ঠ ক্ষীণ
ডাকিল পান্থ, ‘দ্বার খোল বাবা, খাইনি তো সাত দিন!’
সহসা বন্ধ হ’ল মন্দির, ভুখারী ফিরিয়া চলে,
তিমির রাত্রি, পথ জুড়ে তার ক্ষুদার মানিক জ্বলে!
ভুখারী ফুকারি’ কয়,
‘ঐ মন্দির পূজারীর, হায় দেবতা, তোমার নয়!’
মসজিদে কাল শিরনী আছিল, অঢেল গোস্ত রুটি
বাঁচিয়া গিয়াছে, মোল্লা সাহেব হেসে তাই কুটিকুটি!
এমন সময় এলো মুসাফির গায়ে-আজারির চিন্
বলে ‘বাবা, আমি ভুকা ফাকা আছি আজ নিয়ে সাত দিন!’
তেরিয়াঁ হইয়া হাঁকিল মোল্লা – “ভ্যালা হ’ল দেখি লেঠা,
ভুখা আছ মর গো-ভাগাড়ে গিয়ে! নামাজ পড়িস বেটা?”
ভুখারী কহিল, ‘না বাবা!’ মোল্লা হাঁকিল – তা’ হলে শালা
সোজা পথ দেখ!’ গোস্ত-রুটি নিয়া মসজিদে দিল তালা!
ভুখারী ফিরিয়া চলে,
চলিতে চলিতে বলে-
“আশিটা বছর কেটে গেল, আমি ডাকিনি তোমায় কভু,
আমার ক্ষুদার অন্ন তা’বলে বন্ধ করোনি প্রভু
তব মসজিদ মন্দিরে প্রভু নাই মানুষের দাবী,
মোল্লা-পুরুত লাগায়েছে তার সকল দুয়ারে চাবী!”
ঈমানী জোশ আর জেল্লায় হুজুর তার গলার টোন সপ্তসুরে তোলেন- উত্তেজনায় পায়ের বুড়ো আঙ্গুলে ভর দিয়ে উঁচু হয়ে বলেন, “আল্লাহর কী রহমত! আল্লাহপাক আমেরিকারে আমাদের পায়ের তলায় রাখছেন। সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ! মাশাআল্লাহ!! এভাবেই আমেরিকার লোকজন আজীবন আমাদের পায়ের নিচেই থাকবে। সবাই বলেন, আমীন!”
“আ-মী--ন!” সমস্বরে হাঁক ওঠে!
(বদ্ধ ঘরের সজোরে আওয়াজে হয়তো আকাশ বাতাস কাঁপেনা। যদি পলেস্তরার প্রাণ থাকতো, ইটের সঙ্গে তার প্রথাগত সখ্যের অকাল মৃত্যু ঘটতো!)
তরজমাঃ
ভূ-গোলকীয় অবস্থানে বাংলাদেশের প্রায় মধ্যখান দিয়ে গেছে ৯০ ডিগ্রী পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা। আর বিশাল দেশ আমেরিকার মধ্যে কোন এক খানে ছেদ করেছে ৯০ ডিগ্রী পশ্চিম দ্রাঘিমার কল্পিত রেখা। পৃথিবী গোলকের অবস্থান হিসাবে যেটি বাংলাদেশ একদম উল্টোদিকে।
বিজ্ঞান বলে, মানুষের বাস পৃথিবী পৃষ্ঠে। সেই হিসেবে আমেরিকানরা ঠিক আমাদের পায়ের নিচেই থাকে সবসময়।
শাস্ত্রে বলে, মিথ্যে বলা মহাপাপ।
হুজুর তো মিথ্যে বলেননি।
ঝড়ে বক মরে, ফকিরের কেরামতি বাড়ে।
(তাহলে, আমরা নিজেরা আমেরিকানদের সাপেক্ষে কোথায় আছি, সাধু?)
শানে নুজুলঃ
ছাপোষা কর্মচারী হিসাবে দেখছি, শুনছি -- অফিসের নতুন একটি সিস্টার কনসার্ন খোলা হচ্ছে। বেশ লাভের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে শুরুর আগেই। নতুন ফ্লোর নেয়া হলো এজন্য। ইমাম ডেকে মিলাদ পড়ানো হলো। এ উপলক্ষ্যে উচ্চপদস্থদের অনেককেই প্রথমবারের মত টুপিতে সয়লাব হতে দেখে ‘কেমন জানি’ লাগলো! নামাজে যাবার কারণে নামাযীদেরকে টিটকারীও শুনতে হয়েছে বেশ ক’বার এঁদের কাছ থেকেই!
নামাযের চেয়ে মিলাদের প্রয়োজনীয়তাই ‘হয়তো’ বেশি জরুরী।
একটি প্রভাবশালী পত্রিকা ধর্মের অনেক মৌলিক বিষয়ের উপর ‘তর্কের খাতির তর্কের’ মত কটাক্ষ প্রকাশ করে। কিন্তু দেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে থাকা ‘অপ্রমানিত’ ও বিচিত্র আচারে আচরিত ‘মাজার’ রক্ষায় তাদের গলার স্বর খুবই জোরালো। ধুঁয়াটা তখন ওঠে প্রত্বতত্তের! মূলটা আসলে কোথায়?
সম্ভবত নজরুলের একটা কবিতার লাইন আছে, প্রায় সম্পূর্ণ ভুলভাবে সেটি খেয়াল আছে... শুধু ভাবটা...
“জিলাপি অর্ধেক বাঁচিয়া গিয়াছে, হুজুর তাই হাসিয়াই কুটি কুটি...”
কেউ কি পুরো কবিতাটি আমাকে দিতে পারবেন? ভুলটা সংশোধন করে নিতাম!
আর, পুরনো অথচ চমৎকার একটা পোস্ট পড়লাম একটু আগে। Click This Link
-------------------------------------------------
রাতমজুর ভাইয়ের সৌজন্যে কবিতার সঠিক অংশটুকুঃ
-------------------------------------------------
মানুষ- নজরুল ইসলাম
গাহি সাম্যের গান-
মানুষের চেয়ে কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান,
নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্মজাতি,
সব দেশে, সল কালে, ঘরে-ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি।
‘পূজারী, দুয়ার খোল,
ক্ষুদার ঠাকুর দাঁড়ায়ে দুয়ারে পূজার সময় হলো!’
স্বপ্ন দেখিয়া আকুল পূজারী খুলিল ভজনালয়
দেবতার বরে আজ রাজা-টাজা হ’য়ে যাবে নিশ্চয়!
জীর্ণ-বস্ত্র শীর্ণ-গাত্র, ক্ষুদায় কন্ঠ ক্ষীণ
ডাকিল পান্থ, ‘দ্বার খোল বাবা, খাইনি তো সাত দিন!’
সহসা বন্ধ হ’ল মন্দির, ভুখারী ফিরিয়া চলে,
তিমির রাত্রি, পথ জুড়ে তার ক্ষুদার মানিক জ্বলে!
ভুখারী ফুকারি’ কয়,
‘ঐ মন্দির পূজারীর, হায় দেবতা, তোমার নয়!’
মসজিদে কাল শিরনী আছিল, অঢেল গোস্ত রুটি
বাঁচিয়া গিয়াছে, মোল্লা সাহেব হেসে তাই কুটিকুটি!
এমন সময় এলো মুসাফির গায়ে-আজারির চিন্
বলে ‘বাবা, আমি ভুকা ফাকা আছি আজ নিয়ে সাত দিন!’
তেরিয়াঁ হইয়া হাঁকিল মোল্লা – “ভ্যালা হ’ল দেখি লেঠা,
ভুখা আছ মর গো-ভাগাড়ে গিয়ে! নামাজ পড়িস বেটা?”
ভুখারী কহিল, ‘না বাবা!’ মোল্লা হাঁকিল – তা’ হলে শালা
সোজা পথ দেখ!’ গোস্ত-রুটি নিয়া মসজিদে দিল তালা!
ভুখারী ফিরিয়া চলে,
চলিতে চলিতে বলে-
“আশিটা বছর কেটে গেল, আমি ডাকিনি তোমায় কভু,
আমার ক্ষুদার অন্ন তা’বলে বন্ধ করোনি প্রভু
তব মসজিদ মন্দিরে প্রভু নাই মানুষের দাবী,
মোল্লা-পুরুত লাগায়েছে তার সকল দুয়ারে চাবী!”
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)