রম্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
রম্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ১১ আগস্ট, ২০১০

রাখাল

১.
প্রেরিত পয়গম্বরেরা বেশিরভাগই জীবনের কোন না কোন সময় সময় পশু চড়িয়েছেন- মানে রাখাল আর কি! পয়গম্বরদের জীবনী আগে পড়া থাকলেও এই সুক্ষ্ণ মিলটা চোখ এড়িয়ে গেছিলো আগে। আর, সেটা ‘ডিসকোভার’ করলাম সম্প্রতি। এর কারণ কী?

বেয়াড়া মানব সম্প্রদায়কে যুগে যুগে সুপথে আনার আগে, এই রাখালগিরি ছিলো তাদের জন্য ওয়ার্ম-আপ প্র্যাক্টিশ ম্যাচ বিশেষ!

বুধবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১০

পথে হলো দেরী ... ইহা রোমান্টিক সিনেমার টাইটেল নহে!

বিসিএস পরীক্ষা ছিলো। সকাল দশটায়। বাসা থেকে বের হয়েছি সাড়ে আটটায়, অন্য দিনের মতই। সাড়ে নয়টার দিকেই অকুস্থলেপৌঁছে যাবার কথা। বিধি-কড়াবাম! বাংলামটরে ট্রাফিক পুলিশে বাস দিলো আটকে। সিগনাল। কাওরান বাজার থেকে শাহবাগ অভিমুখী সব গাড়ি যায়। কিন্তু, মগবাজার থেকে বাংলামটর আসা সম্মুখগামী কোন গাড়ি ছাড়েনা। ছাড়েইনা। এখানেই পৌণে দশটা। জানা গেলো প্রধানমন্ত্রী আসবেন এ পথে। তাই ছাড়া যাবেনা। ছাড়লো অবশেষে। আর, সব মিলিয়ে তেজঁগা কলেজের কেন্দ্রে পৌছাতে ১০ মিনিটের বেশি দেরী।

সিগনালে আটকে, বাসের গেটে ঝুলে যেসব জিনিষ মাথায় আনা যায় ---

০- ট্রাফিককে আচ্ছামত গাল দিতে পারি।
(কার দোষে, জানিনা!)

০- প্রধানমন্ত্রীকে বাপসুদ্ধ গাল দিতে পারি।
(এর মধ্যে আবার বাপ নিয়ে টানাটানি ক্যান?)

০- যানজটে পড়ার জন্য রিকশার বা গাড়ির বাহুল্যকে গালাগাল দিতে পারি।
(নিজের গাড়ি কেনার মুরোদ নাই, তাই না?)

০- গাড়ি ভাঙচুর করতে পারি।
(তৃতীয় কারণ আবার দ্রষ্টব্য)

০- পুরোদস্তুর সাধু হয়ে ভাবতে পারি, “তিনি যা করেন সব ভালোর জন্য করেন। নিজে কিছু না করে খালি চেয়ে চেয়ে দেখো!
(উপায় নাই রে গোলাম হোসেন!)

০- কিংবা ভাবতে পারি, আমার চেয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্ব বেশি, না হয় আমার দুয়েকটা পরীক্ষা মিস হয়েই গেলো। দেশের জন্য কিছু করতে পারলাম!
(দেশপ্রেম মহৎ গুণ)

০- সহনশীলতা মহৎ গুণ- আগামী কোন চাকরী পরীক্ষায় রচনা এলে নিজেকেই উদাহরণ হিসাবে ভেবে শান্তি পেতে পারি।
(আঁতলামো করার জায়গা পাওনা?)

০- আমার শতকরা আশিভাগ বন্ধু বিদেশ চলে গেছে অনেক আগেই। বাহ্যিক কোন প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে সুরসুর করে তাদের পথ অনুসরণ করতে পারি অচিরেই!
(বোধহয় নিয়তি!)

০- অথবা, একটা গান শুনতে পারি। এমনি করে যায় যদি দিন যাক না!
(আঙ্গুর ফল টক!)

অন্য কারও কোন সৃজনশীলআইডিয়া আছে?

সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০০৯

“আমার বিয়াত না আইলে ভাবুম, তুমি আমার প্রতি দূর্বল ছিলা!”

মরশুম খারাপ। বয়স খারাপ। চিনাজানা আশেপাশের পুলাপান খালি বিয়া করতেছে! :(( (প্রত্যেকে কিন্তু একটা কইরাই করতেছে, আবার ভুল ধইরেন না।) প্রতিমাসেই একাধিক বিয়ার দাওয়াত। বিয়া জিনিসটা খারাপ না। খারাপ হইলো সেইখানে গিয়া আমার কুনো কাজকাম থাকেনা, এইটা আগেই কইছি। গিফট কিনতে ম্যালা হ্যাপা পোহাইতে হই। কমদামী না বেশি দামী হইলো? নিজের পকেটের সংগে সঙ্গতি পাইলো কিনা! ম্যালা কনসিডারেশনস। /:) তাই, পারলে বিচিত্র দোহাই দিয়া পিছাইয়া যাই! নামাযে বইসা দুআফাই কইরা দিই। অশেষ নেকি হাসিল হয়! B-)

কিন্তু সবসময় এক দাওয়াই কামে লাগেনা।

মেলাদিন বান্ধবীরে ফুনাইনাই। কাল দুপুরে ফুনাইলাম। ফুন ধইরাই কইলো, “তোমার লগে আমার জরুরী বাতচিত আছে!” :-*
টাশকিত হইলাম! কইলাম, “কী?”
“ধানমন্ডি ২৭ আসতে পারবা? জরুরী কাজ আছে!”, তাড়াতাড়ি কইয়া ফেললো!

খাওয়াইবো মনে হয়! কিন্তু আমার আইজকা রাতে গুরুত্বপূর্ণ কামআছে! একখান ডিজাইন কম্লিট করন লাগবো! টাইম নাই! কইলাম, “কও কী কাজ? মোবাইলে কইরা দেওন যায় কিনা। কুনো ব্যাপারে ইনফু লাগবো?”
“উঁহু! আসতেই হইবে”!
“ক্যালা?”
“আমার বিয়া! তুমারে কার্ড দিমু! কী খুশি!” :D
“ওহ! এই কথা? আর-রে মিয়া তুমি ডিজিটাল যুগে এনালগ হইয়াই থাকলা। ইমেইলে কার্ডের ছবি পাঠায়া দিও! আর, আমি গর্দভ ফুন কইরা তুমার বিয়ার দাওয়াত নিতাছি? এইডা হইবোনা। রাতে নিজে ফুন দিয়া আবার দাওয়াত দিবা!” আমি বাগড়া দিই!
“ওক্কে, বস রাইতে ফুনামুনে!” :)

রাইতে ফুন আইলো! কেতাবী ভাষায় অর্ডার দিলো, “আমার বিয়া। আইবা!”

ম্যালা ভুজুং-ভাজুং দিলাম। ম্যালা কাজ। ম্যালা প্রব্লেম! আইতে পারুমনা!

শেষকালে মোক্ষম অস্ত্র ছাড়লো সে! “আসছে শুক্কুরবার, আমার বিয়াত না আইলে ভাবুম, তুমি আমার প্রতি দূর্বল ছিলা! ছ্যাঁকা খাইছো! সবাইরে কইয়া দিমু!”:-/

এইবার কী করি? মাফ চাই, দু’আ-ও চাই! :((

মাথাও চুলকাই! কুনো বুদ্ধি দিতে পারেন? কী গিফট কিনুম?

অর্ধ-প্রাসঙ্গিক কাহানী: আগের অফিসের মালিক মাইনে প্রেসিডেন্টের বউ ছিলো কুম্পানীর সিইও! তাই বিয়েত্তা ভাইগো খেপাইতাম, “ভাই, আপনের সিইও কেমতে আছে?”

এই বান্ধবী পাশ কইরা দুস্তের কুম্পানীতে সিইও হিসাবে জয়েন দিছিলো একখানে। তারেও খেপাইছিলাম!

কিন্তু, বিয়া নাকি সেই মালিক-কাম-দুস্তের লগে!?

তাই ভাবতাছি, টিয়া পাখি আর লাল-সুতা নিয়া সুলেমানি পাথ্‌থরের বিজনিসে নামুম নাকি? কওয়া ভবিষ্যৎ তো 'ঝড়ে বক মারা ফকিরের' মত লাইগা যায়!!

হক মৌলা! :P

(পরিবর্ধিত অংশঃ ২২ নম্বরে রোবোট ভাইয়ের কমেন্টের পরিপ্রেক্ষিতে! )

তয় আমি তারে কী কইছিলাম সেইটা মূল ব্লগে পরথমে দেইনাই।

কইছিলাম, "ম্যালা লুকই তো তুমার বিয়াত আইবোনা! তাইলে সব্বাইরে তুমি ছ্যাকা দিছো! ছি ছি ছি, তুমি এত খারাপ! এত্তো পুরুষের সঙ্গে তুমার সম্পর্ক! "

এইবার তার মাপ চাওনের পালা! হে হে হে!
শেষ কথাঃ তার বিয়াত আমি যাইতে পারিনাই। সে আমারে দূর্বল করিতে না পারিলেও, আল্লাহর মাইর দুনিয়ার বাইর! টানা ৪ জ্বরে ভুগিয়া শয্যাশায়ী হইয়াই গুজরান করিয়াছি সেই দিন! :|


[অনটেস্টঃ ব্লগীয় ইয়ো বাতচিতে প্রথুম পুস্ট!] :|

শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০০৯

শিষ্টতার গল্প

সকাল থেকে চলে আসা শিক্ষায় দান-গ্রহণের পর গুরু-শিষ্য দু’জনেই ক্লান্ত। ঘরের বাইরে বেরিয়েই গনগনে রোদ মাথার উপর। গাছের ছায়া বসে গুরুর ইচ্ছা জাগে ডাবের পানি পান করবার।

- বাবা, আমি তৃষ্ণার্ত। তুমি গাছে উঠে আমার জন্য ডাব পেড়ে আনো।
- গুরু, আমার বেয়াদবী মাফ করবেন। এটা আমি করতে পারবো না।
- আমার আদেশ পালনে তোমার বেয়াদবী কোথায়?
- গাছে ঊঠলে আমি উপরে আর আপনি নিচে থাকবেন। গুরুর উপরে শিষ্য থাকবে, এটা হতেই পারেনা। নির্ভেজাল বেয়াদবী!
- তাই? ঠিক আছে, গাছে আমিই উঠছি। তুমি বাড়ির ভেতর থেকে একটা দা নিয়ে এসো।

গুরু গাছ থেকে ডাব পেড়ে আনলেন। ইতোমধ্যে শিষ্য দা নিয়ে হাজির।

- নাও, এবার ডাবগুলো কেটে ফেলো।
- গুরু, এতো বেয়াদবী আমাকে দিয়ে হবেনা!
- মানে? এতে আবার বেয়াদবী কিসের?
- আপনার সামনে ‘কোপাকুপি’ করাটা কী ঠিক?
- আচ্ছা, ঠিক আছে। আমিই কাটছি।

আপ্রাণ কসরত করে ডাব কেটে, নিজে একটা নিয়ে, শিষ্যের দিকে আরেকটি ডাব এগিয়ে দিলেন গুরু।

- নাও, খাও।
- আদেশ না মেনে আপনার সঙ্গে আজ অনেক বেয়াদবী করছি। আর বেয়াদবী করবোনা। এখুনি খেয়ে নিচ্ছি।

ঢক! ঢক!! ঢক!!! :D

সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০০৯

মহিষের ডানা

হঠাত করেই আতিকের ফোন, “চাকরী পার্মামেন্ট হইছে। সংগে প্রোমোশনও ফ্রি দিছে! তোমারে খাওয়াবো। মিশু ও আসবে।” খাওয়াদাওয়ার এমন প্রস্তাব এপ্রিশিয়েট না করাটা একরকম গুরুতর অপরাধের পর্যায়েই পড়ে। তার উপর নাকি হাসিবুল-মিশুও আসবে। সেই স্কুলের পর আবার দেখা হবে। বছর দশেক হবে। না করার উপায়ই নেই।

ভেন্যু ঢাকার বাইরে। উত্তরায়! তাতে কী? বেদুইনরা মরুভূমি পাড়ি দেয় আর আমিতো খাবার জন্যে মঙ্গলে যেতেও রাজী! কেউ যখন খাওয়ানোর প্রস্তাব দেয়, তখন একটা স্বাভাবিক প্রবনতা থাকে একটু বেশি খসানোর! হুমকিটা তাই আগেই দিয়ে রাখলাম ওকে। অভয় দিলো - মোহাফেজখানা ওর সংগেই আছে।

রেস্টুরেন্ট বাছাই করাও একটা প্রকট সমস্যা বটে। সবগুলোতেই চেখে দেখতে ইচ্ছ করে। কোনটায় ঢুকবো সেটা ঠিক করে হেঁটে হেঁটে ৫ নম্বর পেরিয়ে ১১ তে এসে হাজির। অবশেষে ক্লান্ত পা’গুলি ডানে মোচড় দিয়ে কোন একখানে থিতু হলো!

ইচ্ছা মত অর্ডার দেয়ার পর মেন্যুকার্ডটা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখছিলাম। হঠাত একটা আইটেম নজরে এলো- ‘Buffalo Wings’। মনের ভিতর ধুলোপড়া ‘ডিকশনারি’টার পাতা উলটে ‘মহিষ’ ছাড়া আর কিছুই ভাসেনা! মহিষ বড় দূর্ভাগা প্রাণী! মৃত্যুর পর জাত হারায় ওরা। গরু হয়ে আমাদের প্লেটে আসে! বেচারাদের গায়ের রঙ কালো। তাই কালো গরু নামেও ওরা পরিচিত। ঘোরানো শিংগুলোও বেশ রোমান্টিক! কিন্তু কখনও কোন মহিষের wing তথা পাখা গজিয়েছে, এমনটি শুনেছি বলে মনে পড়েনা। ঘোড়া হলেও উইনিকর্ন বলে চালিয়ে দেয়া যেতো। তাই বলে মহিষাসুর?

পরিবেশনকারীকে তলব করি। অমায়িক হাসি দিয়ে জানায়, “স্যার ওইটা আমাদের ‘ইশপিশাল’ আইটেম!”
“কিন্তু মহিষের পাখনা পাইলেন কই?”
“ওইটা মুরগী দিয়ে তৈরী! মুরগীর পাখা।”
“মহিষ সাইজের মুরগী?! কত্ত বড়? এত দাম কম? কিন্তু আবার দেখি লেভেল ১ থেকে লেভেল ১০ পর্যন্ত! এর মানে কী? বসুন্ধরার মত লেভেল ১ খাইলে দাম কম, লেভেল ১০ এ খাইলে বেশি?”
“স্যার, ওটা হলো ঝাল এর মাত্রা! কোন মাত্রায় ঝাল খেতে চান, সেটার উপর নির্ভর করে! প্রতিলেভেল মাত্র ১০ টাকা!”

মনে পড়লো, শুরুতে ঝাল-কোক নিয়েছিলাম। এটাও নাকি ওদের ইশপিশাল মেনু! শা----, কোকের ভিতর একগামলা গোলমরিচ! প্রতি চুমুকেই নাকের ভিতর চুলকানী!

“ঠিক আছে ভাই, আমাদের জ্ঞান বাড়লো! প্রয়োজ়ন পড়লো ডাক দেবো। আহেম!”


খাওয়ার শেষে পরিবেশনকারী আবার এসে মুখে ‘ড্রাইওয়াশ মার্কা’ হাসি ঝুলিয়ে জিজ্ঞাসা করে, “স্যার, খাওয়া কেমন লাগলো?”

এসব ক্ষেত্রে মনে হয় ভদ্রতা করে বলতে হয়, “ভালো ভালো, অসাধারণ!” কিন্তু এত দাম দিয়ে এত অল্প সাধারণ মানের খাবার চেখে মেজাজ এমনিতেই টং! তার উপর ঝাল কোক! সেটাই মুখ দিয়ে বেরিয়ে এলো অবলীলায় , “যত আশা করে ঢুকেছিলাম, ততটা ভালো লাগেনি।” বলেই নিজের হাতের দিকে নজর গেলো, ছুরি-চামচের ‘ওএসডি’ অবস্থা দেখে ওয়েটার যেন আবার ‘খ্যাত’ মনে না করে তাই আবার যোগ করলাম, “আমরা বিভিন্ন জায়গায় খেয়ে খাবারের মান দেখি। যদিও হাত দিয়েই খাই!”

মিশু আমার মত অত রূঢ় নয়, “না ভাই, মিনারেল ওয়াটারটা দারুন মজা লাগছে!”


***
[ বিয়ে বাড়িতে রান্না ভালো না লাগলে আমাদের মধ্যে বলার চল আছে, “রান্না অসাধারণ হইছে, বিশেষ করে কোক রান্না তো অতুলনীয়!”]

শনিবার, ১৩ জুন, ২০০৯

অসুস্থ্যতা

শুক্রবার দুপুরের অলস সময়ের বদৌলতে হঠাত করেই একটা ছোট্ট মজার ঘটনা মনে পড়লো। ভুলের যাবার আগেই ঝট করে লিখে ফেলি।

--

আগের অফিসে ছুটি চাওয়া ও সেটা চেয়ে পাওয়াটা চরম ঝামেলার একটা ব্যাপার ছিলো। এডমিনিস্ট্রিটিভ অফিসার তথা এ.ও সাহেবের সামনে নানা রকম জবাবদিহিতার খেতাপুরি! কয়েক মিনিটের রিমান্ড! মেজাজ খারাপের একশেষ।

এর চেয়ে সহজ অথচ- ‘দূর্ণীতিমূলক’ অসুস্থ্যতা অনেক ভালো! টিম ম্যানেজারকে ফোন করে দিলেই হয়, “ভাইয়া, আজ আসতে পারবোনা মনে হয়। তবে একটু ভালো বোধ করলেই চলে আসার চেষ্টা করবো।”

উনিও ঘোড়েল। আমার আগেই পাশ দিয়েছেন এ লাইনে! জানেন সবকিছুই। তাই, আগাম শারীরিক আবহাওয়াবার্তা ছাড়া যেত মাঝে মধ্যে-“ভাইয়া, আগামী পরশু আমি অসুস্থ্য থাকবো!”;)

এরকমই কোন এক শুক্রবার দুপুরে ‘অসুস্থ্য’ আমি গিয়েছি বুয়েটে! ওহ! আগের অফিসে ছুটি ছিলো রবিবার, সেটা বলাটা আগেই দরকার ছিলো! পলাশীর প্রান্তরে থুক্কু মোড়েই আচমকা- ও মোর জ্বালা- এ.ও সাহেবের সঙ্গে দেখা- দুই জোড়া চোখের ‘অ-মধুর’ মিলন!/:)

লজ্জায় মুখাবনত! তবুও ‘বীরবাঙ্গালী’ সাহসে তাকিয়ে দেখলো, উনি আমাকে দেখেও না দেখার ভান করে চলে গেলেন!:-/

পরদিন অফিসে গিয়ে শুনলাম, উনি অসুস্থ্যতার কারণে আগের দিন আসতে পারেন নি!

সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০০৯

হঠাৎ করিয়া বিবাহের শখ জাগিলো, যেই কারণে...

অবশেষে সাড়ম্বরে বান্ধবী ‘ত’ এর বিয়ে সম্পন্ন হলো। বন্ধু ‘স’ এর সঙ্গে। উপস্থিত ছিলাম।

বিয়ে বাড়িতে যেতে ভালো লাগেনা। সবাই হেসে-কুঁদে কত কী করে। আমি হাঁদারাম, চুপচাপ চেয়ার টেনে এক কোনায় বসে থাকি! বরের মুখে একরাজ্যের চিন্তার রেখা গুনি আর কণের মুখের খলখলিয়ে উঠা হাসির উজ্জ্বলতা মাপি! আর খাওয়ার দাওয়ার পর হেলেদুলে প্যাভেলিয়নে ফিরি। তাই, পারলেই ‘না’ বলে দিই। কিন্তু 'ত' বললো যেতেই হবে, “খুব বেশি ছেলেকে দাওয়াত দেয়া হয়নি। তোমাদের মত খুব কাছের ক’জন বন্ধুকে!”। প্রস্তাবটা রোমাঞ্চকর না অপমানের সেটাই বুঝতে সময় লাগলো! এক দঙ্গল ‘হাওয়া’র মাঝে খুচরো ক’জন ‘আদম’! সংখ্যালঘু সমাচার!:((

তবুও যাওয়া হলো! বন্ধু ‘র’ এর সঙ্গে! ভোজটাও ছিলো ‘একটু’ অন্যরকম! পুরোটাই ‘চিকেনায়িত’! প্রথমে এলো চিকেন কাচ্চি - সঙ্গে চিকেন রোস্ট! পরে গলাগলি করে এলো, চিকেন কারী আর চিকেন কাবাব! পাশে বসা গোল চশমাধারী ‘র’ এর চোখ আরও গোল হয়ে উঠে! ওকে আশ্বস্ত করি, ‘আমি মেরিডিয়ান চিকেন ফ্লেভার চিপস ও আশা করছি!’

মনে হয়, আমাদের দোয়া-আশির্বাদে বিয়ে ভালোভাবেই সম্পন্ন হলো। দে লিভ হ্যাপিলি এভার আফটার!B-)

বিয়ের পর প্রথম জন্মদিন পড়লো জুনে! প্রতিবারের মতই উইশ ভাসাই এসএমএস এ, “শুভ জন্মদিন... ইত্যাদি ইত্যাদি...”
জবাব এলো, “থ্যাঙ্ক ইউ ফর ইয়োর উইশ। ‘স’ এখন অফিসে!”

দু’দিন পর মেসেঞ্জারে পেয়ে জিজ্ঞাসা করি, “কী খবর কেমন আছো ‘ত’?”
বেশ খানেকক্ষণ পর মেসেঞ্জারের রঙ পালটায়, “আমি ভালো আছি। ‘স’ এখন অফিসে দারুন ব্যস্ত ... !”

আবার গত সপ্তাহে, “শরীর ভালো তো, ‘ত’?”
“এই তো আছি মোটামুটি। ওর শরীরটাও ভালো। ‘স’ আগামী সপ্তাহে মালয়েশিয়া যাচ্ছে! ...”

অল রোডস লিড টু রোম!X((

মনে কী সাধ আহ্লাদ জাগেনা? নাহয় আমি ‘আবিবাহ-চিরকুমার’! নেই কী কোন অ-আ-ক-খ-প-ফ-ব-ভ-ম-বিসর্গ-অনুস্বার? যে বলবে, ‘আ’ সবসময়ই অফিসে!:P

তবুও, ভয় লাগে! কারণ, একটি দূর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না!:((

মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর, ২০০৮

VISA


এমবাসী’তে ভিসা পাওয়া যা-তা ব্যাপার নয়। অনেক রকম হ্যাপা পোহাতে হয়। নাকের জল, চোখের জল .. কার্যক্ষেত্রে আরো অনেক কিছুর সংগে এই দুইটার ও প্রয়োজন হয়। ভুক্তভুগী মাত্রই জানেন। আমি ভুক্তভুগী নয়। ব্যাপারটা আমার এককালের সহপাঠী আর বর্তমানের কলীগ মফিজ এর! তবে ভার্সিটিতে মেয়েরা ওকে ডাকতো ‘মুস্তাফিজ’। সবখানেই কেন জানি জেন্ডার-অসমতা!

মোটামুটি নিষ্পাপ আচরণ। এফেয়ার করতে খুব একটা প্রবলেম হলোনা ওর। মেয়েও আমাদেরই ক্লাসের। সোনায় সোহাগা! পরিনতি ভালোই। সরাসরি পারিবারিক ভাবে বিবাহ! প্রেমের কাহিনীতে ভিলেন না থাকলে কী চলে? এইখানে ভিলেন হলো, মেয়েটার পাওয়া জাপানী স্কলারশিপ। যে নারীর স্বামী বিদেশে ত্থাকে... ব্যকরণ বইতে এর একটা এককথায় প্রকাশ আছে... প্রষিতভর্তৃকা! মফিজ হলো 'প্রষিতভর্তৃক’! (জানিনা, আদৌ এরকম শব্দ বাংলা ভাষায় আছে কিনা!) বাংলা সিনেমার ‘টেরাজিডি' কে হার মানিয়ে নববধু ঈদের আনন্দ-সকালে কান্নাকাটি করে উড়াল দিলো সূর্যোদয়ের দেশে। দিলো অনেক প্রতিশ্রুতি। তোমাকে শীঘ্রই নিয়ে যাবো... ইত্যাদি ইত্যাদি।

বিশ্বাসভঙ্গের ঘ্রাণ পাওয়া যাচ্ছে? উহু! নাহ!

মেয়েটা কাগজপত্র সবই পাঠালো। কিন্তু বাগড়া দিলো জাপানী এমবাসী! সব ডকুমেন্টস ঠিক আছে। তবে প্রতিদিনই নতুন নতুন কাগজপত্রের আবদার করে তারা। ব্যাংক স্টেটমেন্ট, নিকাহনামা এইরকম উল্টোসোজা যাবতীয় সিলমোহরযুক্ত কাগজ দেখানোর পরও তাদের খায়েশ মেটেনা! সর্বশেষ বার বলেছে, বিয়ের আগে তোমার বউ এর সংগে কিভাবে পরিচয় হয়েছে, সেটার উপর একটা রচনা লিখে জমা দাও! ফার্স্টক্লাস গেজেটেড অফিসার কর্তৃক সত্যায়িত করে দিতে হবে কিন্তু!

কাল সন্ধ্যায় বেচারাকে দেখালাম, কাগজ কলম নিয়ে বসেছে!

উপদেশ দিই, “কষ্ট করে লিখে আর কী করবি? অন্তরঙ্গ ভিডিও দেখাইয়া দে ওদের!”

“ওইটা তো বিয়ার পর। কিন্তু এবার তো চাইছে, বিয়ার আগের কাহিনী!”

“তাইলে আর কী করবি? রেফারেন্স হিসাবে আমার ফোন নাম্বার দিস ওদের! ফোন করলে বলবো, সন্ধার পর তোদের প্রায়ই আপত্তিকর অবস্থায় দেখেছি!”

হা হা হা!

বেচারা আজ দুপুরে গেছে আবার এমবাসীতে...।

দেখি কী হয় এবার...!

মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর, ২০০৮

লস!


কয়েক দিন আগে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনে ব্লাড ডোনেট করতে গিয়েছিলাম। এই নিয়ে মোটে নয় বার হলো! :(

পাশের টেবিলে শুয়ে থাকা আরেক ডোনারকে আক্ষেপ করতে শুনলাম এভাবে, "সেদিন শরীরটা বেশি ভালো ঠেকছিলো না। তাই ডাক্তারের কাছে গেলাম। ডাক্তারের কথামত ১০ হাজার টাকা খরচ করে অনেক রকম টেস্ট করালাম। কিছুই পাওয়া গেলোনা। পুরো টাকাটা-ই লস! "

মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর, ২০০৮

আবার অফিস...




জামাল ভাইয়ের বঊ মানে আমাদের জামালভাবী ঘরে বসে থাকতে থাকতে একটু টায়ার্ড। তাই বাড়তি কাজ হিসাবে তিনি শুরু করেছেন ফতুয়া ডিজাইন।

ফর্মুলা অনুযায়ী প্রথম ফতুয়াটা অবশ্যই জামাল ভাইয়েরই হওয়া উচিত। আর সেটাই তিনি অফিসে পরে এসেছেন!

ফতুয়াটা ভালোই। হাতের কাজের প্রশংসা কুড়োচ্ছে দেদারসে ওটা! আমাদের মুখে বউয়ের প্রশংসা শুনে জামাল ভাই নিজেই ফুলে যাচ্ছেন! (কানে কানে একটা কথা বলে রাখি, একটু বয়স্করা টি-শার্ট অথবা ফতুয়া পড়লে, তাদের ভুড়িটা সহজেই দৃষ্টিগোচর হয়। সেই জন্যই ফুলে যাওয়াটা খুব স্বাভাবিক! )

ফতুয়াটা আসলেই দেখতে ভালো। যার যা প্রাপ্য সেটা দিতে আমি কখনই কার্পণ্য করিনা, ওহ জামাল ভাই! ফতুয়াতে আপনাকে দারুন লাগছে! মনে হচ্ছে আপনার বয়স পাক্কা তিন দিন কমে গেছে!

জামাল ভাই আমার উপর একটু বিরক্ত হলেন মনে হয়, মাত্র তিনদিন?! ভেবেছিলাম বলবেন, ১০ বছর!

মাঈনুল ভাই তাকে ুশি করার জন্য ঝপট বললেন, জোস! আপনি যেই স্টাইলে দাঁড়িয়েছেন... যেন একটা scare-crow!

আশ্চর্যজনকভাবে শব্দটার অর্থ তিনি জানেন না! তাই ইংরেজী প্রশংসা শুনে খুশি হয়ে আরেকটা পোজ দিয়ে আমাকে জিজ্ঞেসলেন, এবার কেমন লাগছে?

কঠিন! আপনাকে এবার ফুরফুরে মেজাজের Traffic-Police এর মতই লাগছে! ... এবার ইংরেজীটা তিনি ঠিকই বুঝলেন।

আর আবার বিরক্ত হলেন আমার উপর!

***

গণ অসন্তোষের কারণে কোথায় যেন পুলিশকে মোলায়েম লাঠিচার্জ করতেই হয়েছিলো। তাতেও যখন কাজ হলোনা, তখন ভরসা রাবার বুলেট ! ঘটনা একটু ভয়াবহ!

তাই পরেরদিন স্থানীয় সংবাদপত্রে জব্বর একখানা হেডলাইন জায়গা করে নিলো,

পুলিশের গুতে তিনজন আহত!

চারিদিকে হৈচৈ... ব্যাপার কি? এবার ঘটনা একটু আকর্ষণীয়!

পরেরদিন পত্রিকায় সংশোধনী দিতেই হলো,

পাছার ভুলের কারণে গুলি গু হয়ে যাওয়ায় আমরা দুঃখিত।

তৃতীয় সংশোধনীতে কি এসেছিলো সেটা আর জানা যায়নি!

[প্রকৃত শব্দদ্বয় যে গুলিছাপা, সেটা বলাই বাহুল্য!]

***

রবিবার, ৫ অক্টোবর, ২০০৮

অন্তর্ধান।


বিকাল বেলায় অফিসে একটা ঝিমুনী চলে এসেছিলো! কোন ইঞ্জিনিয়ারেরই কাজে তেমন মনোযোগ নেই ! এই সময়টা অফিসের সিনিয়র এডমিনিস্ট্রেশন অফিসার ও নিজের ঘরের দরজা বন্ধ করে ঘুমানবয়স হয়েছে তো! পিয়নরা অবশ্য বলে, তিনি রেস্টনিচ্ছেনআমার বসার জায়গাটা তার রুমের দেয়াল লাগোয়াআমিও সেই সুযোগে তার মতই একটু ঝিমিয়ে নেবার সুযোগটা নিইঅন্যরা তাই আমাকে বলে, আমি নাকি তারমিরর ইমেজ’! একদিন বিকালে দেখি তার রুমের দরজাটা খোলাপিয়ন নুরুর দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকাতেই সে ব্যাপারটা আমাকে বুঝিয়ে বললো


রুমে এসে কলিগদের সামনে আকস্মিক একটা ঘোষণা দিলাম, “এডমিনিস্ট্রেশন অফিসার স্যার আজ আর আমাদের মাঝে নেই!

ঘুমের মৌতাত লাগা কলিগদের মধ্যে একটা মৃদু আলোড়ন বয়ে গেলো! ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউনআহা, দুপুরেই তো দেখলাম সুস্থ্য মানুষটাকি হয়েছিলো? আমরা টের পেলাম না কেন?” উৎসুক চোখ সবার!

হুম... উনি আজ আর আমাদের মাঝে নেইআজকে একটু আগেই ছুটি নিয়ে বেরিয়ে গেছেন!সবাইকে আশ্বস্ত করি

সবার মাঝে একটা হাসির রোল বয়ে গেলোশেষ বিকালের তন্দ্রাচ্ছন্ন ভাবটা কাটিয়ে কাজের পরিবেশ ফেরাতে এই ছোট্ট মজাটা যথেষ্ট ছিলো সেদিনের জন্য!

মঙ্গলবার, ১৯ আগস্ট, ২০০৮

সাম্প্রতিক ব্যক্তিগত কড়চা




বয়স হয়েছে। রাখঢাক করে না বললে, বিয়ের বয়স হয়েছে। অন্তত পাড়াপ্রতিবেশি- আত্মীয় স্বজনের এই পোক্ত ধারণা। কারও বাড়ি বেড়াতে গেলে খালা-নানীস্থানীয় মাতৃকুলের টিকা টিপ্পনীতে অস্থির হয়ে যাই। কবে বিয়ে করবি রে বাপ?। ইঞ্জিনিয়ারদের বেশি দিন এতিম থাকাটা ভালো দেখায়না!

তবে নিজের ধারণাটা অন্য, এই তো সেদিন ফিডার ছাড়লাম। মায়ের কোল থেকে নেমে মাত্রই হাঁটা শিখেছি।

নজরুল সঙ্গীতের প্রতি আমার অপরিসীম আগ্রহ-অনুরাগ। নিজে গাইতে পারিনা। তাই একটু ভালো গলায় কেউ গাইলে, সেটা শুনে সমগ্ররজনী বিনিদ্র কাটিয়ে দিতে পারি। এরই মাঝে অনলাইনে এক আপুর সংগে পরিচয় হলো। একথা সেকথা শেষে তার অযাচিত কৌতুহল পূরণে উগড়ে দিলাম, আমার ফিল-ইন-দ্য-ব্লাংক পোস্টে যিনি আসবেন তাকে নজরুলের গান জানতেই হবে! তিনি সবই গাইতে পারেন এফ.এম রেডিও এর মত। অল ডে, অল হিটস। কিন্তু নজরুলের গান গাওয়ার অনুরোধে তিনি আমার কাছে সসম্মানে মাফ চেয়ে নেন। গলার তারটা নাকি ছিঁড়ে যায় এতে! আমিও তাই বারেবারে তাকে নজরুল সঙ্গীত-ই গাইতে বলি। আর কাচুমাচু গলায় ক্ষমাপ্রার্থনা শুনতে কার না ভালো লাগে!

যাইহোক, বিয়ের চাপাচাপিতে একটা পছন্দ দিতেই হলো। সোনার বরণ কন্যা তোমার, দীঘল কালো চুল... এই ধরণের কিছু না। শরীরের সব অঙগ-প্রত্যঙগ জায়গা মত থাকলেই চলবে। ফুটনোট দিলাম, ডাক্তার হলে মন্দ হয়না। যাক, তাদের কিছুদিন খোঁজাখুঁজির নিমিত্তে দিনকয়েক আরামে কাটিয়ে দিতে পারবো। রাস্তাঘাটে হরহামেশা ডানাকাটা পরী দেখা গেলেও, বিয়ের সময় যে গলাকাটা ও পাওয়া যায়না, সেটা মামার বিয়ে দিতে গিয়েই হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছি। কিন্তু পেয়ারা-দোস্ত সিফ বললো, হায়, হায় করছো কী? ডাক্তার তো কমন স্পেসিমেন! খুব সহজেই খুঁজে পাবে তোমার গলায় ফাঁস দেবার জন্য। ফাঁপড়ে পড়ি। ঘটনা সত্য, আসামী নির্দোষ। কিন্তু কথায় আছে না? বিপদেই প্রকৃত বন্ধুর পরিচয়। ও-ই আবার সাহায্যের হাত বাড়ায়, পছন্দটা মডিফাই করে ফেলো। সবাইকে বলো, ডাক্তার দিয়ে এখন আর হবেনা। এখন হাইটেক যুগ। বিয়ে করলে Astronaut ই সই। এবং অবশ্যই বাঙালী! আমার অন্ধকারের ভিতর হঠাত করে ফ্লাডলাইট এসে পড়ে! এমন পাত্রী আর ইহজগতে খুঁজে পাবেনা কেউ! আমি ও সিকিউরড্‌! সিফাতকে ফাইভ স্টার হোটেলে খাওয়াতে ইচ্ছা করে। কিন্তু মানিব্যাগটা নিক্তিতে ওজন করে ব্যাপারটা স্থগিত রাখা হলো Astronaut পাত্রী না পাওয়া পর্যন্ত!

ভালোই ছিলাম। কিন্তু দিনের ঠান্ডাজ্বরে নিজের পর্যন্ত মতিভ্রম হলো। কিছুতেই সম্মন্ধীয় জ্বর ছাড়েনা। আবার ডাক্তার থিওরীতেই ব্যাক করার বাস্তবসম্মত চিন্তাভাবনা। আগে জীবন, পরে মহাকাশ ভ্রমন! স্বভাবশিল্পী আপুকে সব কিছুই খুলে বললাম আবার, দেখি কোন সদুপদেশ জোটে কিনা!

সব শুনে তিনি আওড়ালেন, ভাই, তুমি একটা জোস কাজ করতে পারো, একটা Actress বিবাহ করো। তার মধ্যেই সব পাবে! একই অংগে বধুরূপে বহুরুপ!

প্রত্যেক মানুষই চমতকার চিন্তা করতে পারে।

আইডিয়াটা মন্দ নয়!

বৃহস্পতিবার, ১২ জুন, ২০০৮

নেগেটিভ!



সকালে উঠেই মেজাজটা খিঁচড়ে গেলো!

যাবেই বা না কেন? সকাল সকাল অফিস যাবো বলে এলার্ম দিয়েছিলাম সকাল সাতটা পাঁচ এ! কিন্তু যন্ত্রধ্বণি বাজার পর বিছানায় এপাশ ওপাশ করে গড়িমসি করতে গিয়ে ১০ মিনিট লেট! আর সকালের ১০ মিনিট লেট মানে রাস্তায় আরো দুজায়গায় বাড়তি জ্যামে আটকে পড়া! অফিসে দস্তুরমত ৩০ মিনিট লেটফলশ্রুতিতে মাসিক মাইনেতে নেগেটিভ!

দিনটাই খারাপঅফিসে গিয়েই বসের ঝাড়ি ! কার মুখ দেখে যে উঠেছিলাম আজ? ও! মনে পড়েছে, হতভাগাটা আমিই ... আধবোঁজা চোখে রাজ্যের আলিস্যি নিয়ে বাথরুমের আয়নায় নিজেকেই দেখেছিলাম প্রথম! অকারণ ঝাড়ি খেলে মেজাজের পঞ্চমী আরো উপরে ওঠে! আর তাতেই ইন্সট্যান্ট ডাইরেক্ট একশন! মাথা ব্যাথা! কাজে অসংগতিআবার ঝাড়িআবার মাথাব্যাথার উচ্চাংগের আরোহন! অচ্ছেদ্য দূষ্টচক্র! ফলাফল আরো নেগেটিভ!

অনিবার্য কারণে অফিসে যাই ছেঁড়া স্যান্ডেল পরে আর বাজারে পায়চারী করি ব্রান্ড-শু পরে! ছেঁড়া স্যান্ডেলে পৈত্রিক প্রাণটা বেঘোরে নেগেটিভ হতে পারে, এই ভেবে একখানা নতুন চপ্পল কেনার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি কদিন ধরেই! সন্ধ্যার সময় রামপুরা বাজারে নেমে এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলে পাশের দোকানে গিয়ে নিজেকেই জুতোবো... সেই নিষ্পাপ ইচ্ছেটাও পুরণ হয়নাপ্রচন্ড গরমে এটিএম-বুথটারও ডি-হাইড্রেশন ঘটে! প্রতিদিন বিকালে হাসফাস করে জ্ঞান হারায় ওটা! আর আমি আসি সন্ধ্যায়! টাকা তোলাও হয়না আর চপল-পায়ে-চাপা হয়না! বাসায় গেলেও ইলেক্টিসিটি নেইদিনটাই নেগেটিভ!

ভগ্নহৃদয়ে রাস্তার ওপার থেকে এপার আসার সময় দানবীয় ট্রাকটাকে জ্যমিতিক এঙ্গেলে সাইড দিতে যাচ্ছি ... এমন সময়... সুললিত কন্ঠের এসএমএস ধ্বণি! ফ্রি এসএমএস এর ফ্রি শুভাকাংখা... শুভ সন্ধ্যা! বিশেষায়িত এমন একটা দিনের শেষে এসএমএসটা বিদ্রুপাত্মক হিসাবেই ধরা দিলো! হয়তো প্রেরকের ইচ্ছাটা ছিলো পজিটিভ! কিন্তু হাইপারটেনশনে নিজেকে আর সামলানো দূষ্কর হলো! কল-ব্যাক করলামফলাফল ততক্ষণাত... ব্যালান্স নেগেটিভ!

ও! একটা কথা বলা হয়নিআগের দিন কোয়ান্টামে স্বেচ্ছায় ব্লাড ডোনেট করে এসেছিলামএ নিয়ে হলো মাত্র আটবার! কাজটা একদম নিঃস্বার্থ ভাবেই করিএমনকি কাকে দিচ্ছি সেটাও জানতে ইচ্ছে করেনাকোয়ান্টামে ব্লাড দেবার একটা মস্ত সুবিধা আছে! ওরা দুয়েকদিনের মধ্যেই ব্লাড এর পাঁচটা গুরুত্বপূর্ণ রিপোর্ট পাঠিয়ে দেয়! আজ দুপুরে ই-মেইলের মাধ্যমে আসা ব্লাড রিপোর্টেও নেগেটিভ!

এইচ-আই-ভি নেগেটিভ!

*** এটা কয়েকদিন আগের পূর্ণদিনের স্বল্পদৈর্ঘ চিত্র মাত্র! ব্যস্ততা আর লোডশেডিং ... উভয়ই আমার উপর প্রভাব বিস্তার করায় একটু দেরী হলো!

শনিবার, ২৯ মার্চ, ২০০৮

আজকের ব্লগ


অফিসে অন্যান্য সিনিয়রদের পেটের সম্মুখগামী স্তরীভুত চর্বির অবস্থান দেখে আমার ডিরেক্ট-বস মাঈনুল ভাই ডায়েট কন্ট্রোলে মনোযোগী হবার আপ্রান চেষ্টা চালাচ্ছেন! প্রায়ই সকালের নাস্তা বাদ দেন তিনি! অফিসে এসে, বাকি সবাইকে শর্করা জাতীয় খাবারে নিরুতসাহিতকরণও ইদানিং তার একটা শখ ! সেদিন আবার দেখলাম, নিমগ্নচিত্তে হার্বাল ওষুধের উপর পড়াশুনাও করছেন! আমি সকালে পরোটা-কেক খাই!

ইস্‌শিরে! এই সব জাংক ফুড যে মানুষ কেমনে খায়! তিনি আমাদের অজ্ঞতায় উষ্মা প্রকাশ করেন, ফ্রুটস খাও!

আপনি সকালে কি খেয়েছেন? সন্দেহ প্রকাশ করতেই হয়, কারণ উপদেশদাতার নিজের অবস্থান জানাটাও অত্যন্ত জরুরী!

আজ কিছুই খাইনি, আশ্বস্ত করেন তিনি, তবে কাল থেকে আঁশযুক্ত ফল খাবো! পেটও ভরবে, আবার স্বাস্থ্যকরও!

নারকেলের ছোবড়া খেয়ে দেখতে পারেন! আঁশগুলো মজবুত!, আমার বুদ্ধিটা বোধহয় তার খুব একটা পছন্দ হয়নি!

***

চাকরী সুবাদে এখন ব্যস্ততা বেড়েছে! আবার উত্তরার মত গ্রামাঞ্চলে থাকার কারণে অন্যদের সংগে যোগাযোগ অনেকটাই কমে গেছে! তাই বেশ কিছুদিন পর পর আত্মীয়স্বজন-বন্ধুদের সঙ্গে মোলাকাত হয়!

হায় হায়! তুমি দেখি শুকিয়ে একেবারে কাঠি হয়ে গেছো!, আমাকে দেখে সবারই প্রাথমিক প্রতিফলন এরকম!

কই? না তো? আমার তো মনে হয়, আমি ঠিকই আছি!, জবাবটাও আমার মুখস্ত!

না না! তুমি খুব শুকিয়ে গেছো। ওজন কত এখন? কত কমেছে?, প্রত্যেকেই কেন যেন হুবহু একই প্রশ্ন করে!

আমার ওজন কমেনি। আগে যা ছিলো তা-ই আছে! এখন ৭২ কেজি, নির্লিপ্ত গলায় বলার চেষ্টা করি! আর প্রশ্নকর্তাকেও চমকে দিই, আর, BMI ২৫ এর আশেপাশে!

হায় হায়! তুমি দেখি মোটা হয়ে যাচ্ছো! শীঘ্রই ওজন কমাও!, মিনিটখানেকের মধ্যেই প্রশ্নকর্তার বুঝি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বাগধারাটা স্মরণে আসে!

মুটিয়ে শুকনো কাঠি হয়ে যাচ্ছি আমি!

কি করি উপায়?

বৃহস্পতিবার, ১৩ মার্চ, ২০০৮

বেগে-আবেগে-ভীষণবেগে...




কে নাকি একবার বলেছিলো, কোন দেশ কতটা উন্নত সেটা নাকি বোঝা যায় তার পাবলিক টয়লেটের অবস্থা দেখে! একেবারে ‘ফর্মালিনযুক্ত’ খাঁটি কথা! এই দেশের কথা আর নতুন করে বলার দরকার আছে কি? পুরো ঢাকা শহরে সিটি কর্পোরেশনের আওতায় পাবলিক টয়লেটের সংখ্যা মাত্র ৩৪! আর সেগুলোর যা অবস্থা! “দূর্গম গিরি, কান্তার মরু” ও হয়তো পার হওয়া যায়কিন্তু ওইগূলোতে ঢুকতে হলে বুকে ‘হিম্মত’ লাগে আর নাকে এক বক্স সুগন্ধী রুমাল! তবে অবস্থা এখন অনেক ভালো ... শপিং এর ভান ধরে মার্কেটগুলোতে ঢু মেরে কাজটা সেরে আসা যায়! এত্তো এত্তো মার্কেট ঢাকা শহরে! সব আমাদেরই জন্য! তবুও, বুঝিনা... এর পরেও কেন যে “প্রকৃতির সন্তানেরা” এই ‘সিমেন্টের জঙ্গলে’ও “বাঁশঝাড়-থিওরী” এপ্লাই করে অকুস্থলেই “কম্মো” করে?! আল্লাহ তাদের সুমতি দিন! আর ... দয়া করে সায়েন্সল্যাব ফুটওভারব্রিজের উপরেই থাকবেন সবসময়!

ভাবছেন, এত বিষয় থাকতে এইটা নিয়ে ব্লগ লিখতে চাচ্ছি কেন? উহু! ব্যাপারটাকে হালকা করে নিলেই খাবেন ধরা! এজন্যই হয়তো, প্রখ্যাত টিভি উপস্থাপক ‘হানিফ সংকেত’ একবার তার ‘ইত্যাদি’তে একজন রাজনৈতিক নেতাকে দিয়ে পাবলিক টয়লেট উদ্বোধন করিয়েই ছাড়লেন! বিষয়টার হিউজ হাইজিনিক কনসার্ন তো একেবারেই অবিভাজ্য!

ফাইনাল ইয়ারে থিসিস করার সময় সবাই চমতকার সব বিষয় নিয়ে থিসিসে ঝাঁপিয়ে পড়লো! কিন্তু এক ছেলে, ম্যাডামের কাছে গোঁ ধরলো, “পাবলিক টয়লেটের উপরই কাজ করতে চাই!” ম্যাডাম তো মহা খুশি, “হমম! এই ব্যাপারে কাজ হয়েছে একটু কমতোমার আগ্রহ দেখে ভালো লাগছে। তো লেগে পড় ঝটপট!” ‘চাল্লু’টার উপর ম্যাডাম এতই খুশি ছিলেন যে, প্রেজেন্টেশনের দিন ‘রাগ্‌ড-ক্যাজুয়াল’ ড্রেসের প্রেজেন্টারও আয়েশে A+ বাগিয়ে নিলো! ছেলেটা নেট খুঁজে ‘আস্ত’ একটা থিসিসপেপার পেয়ে গিয়েছিলো এর উপর! আমাদের আফসোসটা ও বাড়লো সমানুপাতে! অন্য অনেক ‘উন্নত’ বিষয় নিয়ে থিসিস করে অনেক অনেক বেশি শ্রম দিয়েও গ্রেড ঊঠাতে বেগ পেতে হয়েছে আমাদের!

এদিকে অনেকে আবার ব্যস্ত সময়ে এই ‘প্রিয়’ জায়গাটাতে অনেক সময় কাটিয়ে দেন

অফিসে আমরা জামাত করে নামায আদায় করিজামাতের ওয়াক্ত এলেই একযোগে সবাই ‘একদিকেই’ সশরীরে ধাবিত হই! কিন্তু শরীফ সাহেব আগে ঢুকলেই কাহিনী প্যাঁচ খেয়ে যায় তখনি! বাইরে অপেক্ষা করতে হয় ... টাইম ডায়ালেশন ঘটে তখন! অস্বীকার করা অবান্তর, মাঝে মাঝে দরজাটা ভেঙ্গে ফেলতে ইচ্ছে করে!

আমার পিছনে লাইনে থাকা মোস্তফা ভাই প্রায়ই অসহিষ্ণু, “ভিতরে কে?”

আমি তড়িত জবাব দিই, “বার্লিন প্রাচীরের ওইপাশে শরীফ ভাই!”

“আসো! আমরা বার্লিন প্রাচীর ভেঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক পুন:প্রতিষ্ঠা করি!” বিপ্লবের ডাক তার কন্ঠে!

সভ্য সমাজ নাকি অনেক ভালো! কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের মত চমতকার সভ্য জায়গার অবস্থা শোচনীয় এরও নিচে! ‘ঢাবি’র কোন হলের টয়লেট নাকি এমনই অন্ধকার যে, আমার এক বন্ধু বললো, আগে টয়লেটে ঢুকে হাতড়িয়ে ইট খুঁজে তার উপর আলতোভাবে পা রাখতে হয়! এদিকের হলগুলোর কমন টয়লেটও মাঝে মাঝে ‘দূর্গম’ অঞ্চল হয়ে উঠতো “পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অংগ”--- এই ধরণের চমতকার কোটেশন দেয়ালে মেরে রেখেও যখন কিছু হচ্ছিলোনা, তখন সমস্যার আশু সমাধানে এক ‘গুনী’ টয়লেটের দরজার ভিতর দিকে প্রিন্ট-আউট কাগজে চিকা মেরে দিলো,

“কিছু ফেলে গেলেন কি?”

***

কার্টুনটা উন্মাদে সৌজন্যে

***

পুনশ্চঃ বুয়েটে এইসব নিয়ে ঢের পড়াশুনা করতে হয়েছে! ইঞ্জিনিয়ার হবার ঝক্কি অনেক! অনেক রকম ল্যাট্রিনের গঠন নিয়েও পড়তে হয়েছে! তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটা হলো, VIP-ল্যাট্রিনবলুন তো, VIP এর অর্থ কি হতে পারে? ১০-১২টা কমেন্টস এর পরেই উত্তরটা না হয় দিই?!

বৃহস্পতিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০০৮

ভালো রকম বাসার ব্লগ!



বাসা ভালো? হমম! বড়মামা বিয়ে করবে বলে বড়বাসায় উঠবে। সেজন্য বাসা খুঁজতে গিয়ে নানারকম অভিজ্ঞতা হয়ে গেলো। ভালোবাসা খুঁজে পাওয়া শক্ত! কিন্তু এই ভালো-বাসা নাকি সেই ভালোবাসা না! সিভিল ইঞ্জিনিয়ার মানুষ, ভালোবাসা-খারাপবাসার সম্পর্কে কিছু জ্ঞান রাখি! কিন্তু শুধু ভালোবাসা...? ব্যাপারটা বরাই আমার কাছে অবোধগম্য! কিন্তু আহা, অমোঘ চিত্তচাঞ্চল্যে ভার্সিটি এলাকাটা তো ভাসাভাসি-বাসাবাসির ন্যাশনাল হেরিটেজ-অভয়াশ্রম হয়ে গেলো! সন্ধ্যার পর ওই এলাকা দিয়ে আসতে হলে রিক্সাওয়ালার প্যাডেল এর সৌন্দর্য অবলোকন করে ঈমান-আকিদা ঠিক রাখতে হয়!

যাইহোক, গায়ক নচিকেতা বলেছে,

ভালোবাসা হলো পিটুইটারির খেলা,

আমরা বোকারা বলি প্রেম!

সাধু সাধু! বিজ্ঞানের ছাত্র হিসাবে ব্যাখ্যাটা পুরোটাই গ্রহনযোগ্য! মস্তিষ্কের ভিতর বহুবিধ গ্রন্থির অযাচিত ক্ষরণেই এই প্রেমরোগের জীবাণু মনে বাসা বাধে! ব্যাপার না! জীবানুর ভ্যাক্সিনেশন করা আছে আমার! কিন্তু আবার, রাস্তাঘাটে কেউ একটু নমনীয় হাসি দিলেই মনে হয়, অর্ধেক ভালোবাসা হয়ে গেছে! কিন্তু বাকি অর্ধেকের জন্য যে একটু মেহনত করতে হয়, সেটা আর ইচ্ছা করেনা! বুয়েটে পড়ে আলসের শিরোমনি হয়ে গেছি! সকালে উঠলে নাস্তা করতে দোতলা থেকে নিচে নামতে হবে বলে, জোর করে চোখ বন্ধ করে আবার ঘুমিয়েছি! গন্তব্যঃ একবারে দুপুরের ডাইনিং!

কিন্তু এদিকে আবার, পোলাপান তো স্কুলেই ভালোবাসার প্রথম পাঠ নিয়ে ফেলে। হাইস্কুলে উঠার পর দেখলাম, বন্ধুরা আশেপাশে মিসকল দেয়! কিন্তু নিজের আর প্রেমপত্র লেখার সাহসে কুলোয় না! সুযোগ এলো অচিরেই ... এক পাড়াতো বড়ভাই বললো, তার জন্য একটা প্রেমপত্র লিখে দিতে! বেচারা এক মেয়ের প্রেমে বুঁদ! আর আমি তখন ইঞ্জিনিয়ার হবার বাসনা নিয়ে অংকে টেনেটুনে পাশ করে বাংলায় ছক্কা হাকাই! দুধের সাধ ঘোলে মেটানোর বাসনায় সানন্দে রাজী হলাম! নিজের হাতেই ইনিয়ে বিনিয়ে নানা-প্যাচাল পাড়ার পর ভুল করে নিজের পরিচয় দিতে যাচ্ছিলাম ... ইতি বাপের একমাত্র ছেলে আরাফাত! কিন্তু আচমকা খেয়ালে সামলে নিলাম সবকিছু, পত্রখানি আমার না! বড়ভাইয়ের! তাই লিখলাম, ইতি বাপের একমাত্র বড়ছেলে রুশো! আহা! নব্য প্রেমিকের এহেন উপস্থাপনশৈলীর নমুনা পেয়ে বালিকা স্বাভাবিক আবহাওয়াতেই গলে গেলো। আর আমি পারিশ্রমিক হিসাবে কিঞ্চিত আপ্যায়িত হলাম! সুবহানাল্লাহ!

আহা! আমাদের বায়েজিদ! বেচারা যে মেয়ের দিকেই ভালোবাসার চাতক চক্ষু দিয়ে চায়, তার ভাগ্য খুলে যায়! কিছুদিনের মধ্যেই সে সুপাত্রে গমন করে! বেচারা একটা বিজনেস এজেন্সী খুললে কণ্যাদায়গ্রস্থ মেয়ের বাবাদের কাছ থেকে টু-পাইস কামাতে পারতো! বাবা! আমার মেয়েটার দিকে একটু নেকনজর ফেলো তো, মেয়েটার একটু গতি হোক!

মনন বেচারা ফোনে ফাইট দিতো এক অল্পবয়সী সুহাসিনী এর সংগে! মেয়েটা গানে মিনিপ্যাক রুনা লায়লা! একবার যদি ‘Play’ করতে বললে ‘Pause’ বাটন প্রেস করেও থামানো দূষ্কর। রাত বারোটা থেকে সকাল সাতটা পর্যন্ত ফোন ফাইট! তারপর দেখা করতে যাওয়া! গভীররাতে পড়াশুনার ফাে টায়ার্ড হয়ে গেলে, আমি আর সিফাত যেতাম ওর রুমে! বেচারা মনন আর্জি জানাতো, উফফ! গান শুনতে শুনতে কান গরম হয়ে গেলো, এখন তোমরা একটু শোন তো! তখন তো আর FM রেডিও চ্যানেলের এত চল ছিলোনা। মেয়েটাই ছিলো আমাদের লেট-নাইট FM সুরলহরী!

প্রেমের ব্যাপারটা অনেকটা অর্থনীতির মত! ধণী আর গরীবের বিস্তর ব্যবধান! ধনীরা শুধু কামিয়েই যাচ্ছে আর গরীবরা প্রকারান্তরে আরো গরীব! গ্রামাঞ্চলে গরীবদের জন্য VGF কার্ডের ব্যবস্থা আছে! আমাদের মত যাদের কোন গতি নেই , তাদেরও VGF কার্ড দেয়া উচিত! VGF মানে হলো Vulnerable Group Feeding!

সবশেষে, সফল ভালোবাসার পরিণতি কি?

ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিয়ুন...

বিবাহের পূর্বে তাহাদের বয়স হইয়াছিলো...!

যাইহোক, বেকন বলেছেন, একই সঙ্গে প্রেমিক আর জ্ঞানী হওয়া সম্ভব নয়!

নো ডাউট... আমি বরাবরই একজন যথার্থ জ্ঞানী ব্যক্তি!

(image courtesy: http://femiadi.files.wordpress.com/2006/11/p1080802.JPG)