বৃহস্পতিবার, ১৩ মে, ২০১০

আজ জন্মদিন আমার।

আজ জন্মদিন আমার।

ফিরে ফিরে আসে ফি বছর। এবার সবচেয়ে আলাদা। এখনও পর্যন্ত।

ফেসবুকের বার্থডে উইশের খাতায় সেটি লুকোনো থাকে অন্যদের কাছে থেকে। কেন থাকে জানিনা। তারপর কেউ যদি মনে করে করে উইশ- খুব বেশি ভালো লাগে। মনির ভাই করলেন। উনি কিভাবে জন্মদিন জানলেন সেটি আমার কাছে রহস্য বটে। সিফ করেছে, করেছে মলি!

করেছে কেউ!

তবে, সারপ্রাইজ দিয়েছে প্রজ্ঞা!

চয়ন কিংবা ব্লগের উম্মে হাবিবা ওরফে নীল-দর্পণ কে শুভেচ্ছা জানালাম। সোহাগ কখনও মিস করেনা। এবার করবে? কর্পোরেট চাপে ভুলে যাওয়াই স্বাভাবিক। ছোটমামা করবে। বৃষ্টি বিকেলেই জানিয়ে রেখেছে। ওর আব্বু অসুস্থ্য হয়ে হাসপাতালে না থাকলে বারোটার পর করতো। এবার সাদিয়া মিস করলো শুরুটা। যোগাযোগের নিয়মিততা না থাকলে এরকম হওয়াটা খুব স্বাভাবিক। সাদিয়া করলে কবীর করতো!

আচ্ছা, কে করতো আর কে করতো, এই হিসাব করে নীচুতার পরিচয় দিচ্ছিনা তো? নাকি কেবলই তাৎক্ষণিক চিন্তা?
এতক্ষণে মা ঘুমিয়ে গেছে। মা-কে কখনই আমার জন্মদিন নিয়ে সেভাবে উচ্ছাস প্রকাশ করতে দেখিনি।

কিন্তু, সবচেয়ে বেশি আনন্দ তো তার!

মঙ্গলবার, ১১ মে, ২০১০

ধুম করে ব্লগের লে-আউটখানি পালটে ফেললাম।

ধুম করে ব্লগের লে-আউটখানি পালটে ফেললাম।
অনেক এলিমেন্টস দিয়ে সাজানো ব্লগটিকে নিয়ে এলাম সিম্পলভাবে।
জানিনা, কতদিন এভাবে রাখতে পারি।
পরিবর্তন – পরিবর্ধন- পরিমার্জন!
প্রথম আলো পত্রিকার “বদলে দাও, বদলে যাও” স্লোগানের চেয়ে বিডিনিউজ২৪ এর “সবকিছু বদলাতে নেই” স্লোগানটা-ই বেশি টানে।

কিছু জিনিষ পালটে ফেললাম।
কিছু তো রয়েই গেলো।

ব্লগস্পটে বাংলা লেখার ফন্ট ঠিক করা খুব ঝামেলার এখনও।
কিংবা পদ্ধতিটা আমার জানা নেই।
সব লেখার ফন্ট একইরকম করতে হবে।

১১-০৫-২০১০

আপডেটঃ

নেটের অল্প স্পিডে কালো ব্যকগ্রাউন্ড আসতে সময় নিচ্ছে! :(
ভ্রিন্দা -১২ ফন্ট ব্যবহার করতে হবে।
ইশ, আগের কত ব্লগ- একেকটা একেকরকম ফরম্যাটিং! :(

সোমবার, ১০ মে, ২০১০

....বাইরে অবাক রোদ ভেজা তপ্ত দুপুর

পড়ন্ত দুপুরে, অফিসের ঠিক এই মুহুর্তটা কেমন যেন লাগছে!

অফিসে, অথচ, গান বাজছে--- “দিল হুম হুম কারে”... লতার কণ্ঠে ভূপেনের সেই বিখ্যাত “মেঘ থম থম করে, আলো নেই” গানের হিন্দী সংস্করণ।

ডেস্কটপে খোলা অটোক্যাড-যার মধ্যে জটিল ইঞ্জিনিয়ারিং ড্রয়িং এর কারসাজী। মাথা খাটছে সেখানে, চোখ সেখানে অভিযাত্রী, ড্রয়িং এর গলিঘুপচিতে খুঁজছে ভুল। প্রায়ই খুঁজে পাচ্ছে, হাতকড়া পরাচ্ছে, না পারলে সেই ভুল-ই অন্যের হাতে ধরা পড়ে আমাকেই ধরা খাইয়ে দেবে। সাধু সাবধান!

আচ্ছা, সাধুদের কী সাবধান হবার প্রয়োজন পড়ে? সাবধান হওয়া প্রয়োজন অসাধুদের। তাইনা?

আরও খোলা, স্টাড-প্রো ২০০৭। ক্রাকড। কী অবলীলায় ডাকাতি করা সফটওয়ারগুলো ব্যবহার করি। আচ্ছা, শেষবিচারের দিন এদের মালিকরা যদি মামলা ঠুকে আমার নামে? জরিমানা দেবো কোত্থেকে? উকিল পাবো কোথায়? আগে এটা নিয়ে প্রায়ই ভাবতাম। আর, খোলা মোজিলা ফায়ারফক্স। কী করছি সেখানে? সে আর বলতে। নেটে গান খোঁজা, খানেকক্ষণ ফেসবুক আবার স্রেফ অহেতুক গুগুলিং!

আর ওদিকে বাইরে অবাক রোদ ভেজা তপ্ত দুপুর। মিস করছি।

এদিকে ঘরের এসি নষ্ট হওয়ায় গরম বাতাস!

বুধবার, ২১ এপ্রিল, ২০১০

রাত জাগি...

একটু আগেই রাতে জাগা নিয়ে ছিমছাম একটি ব্লগ পড়লাম। বেশ ভালো লাগলো। রাত জাগাব্যাপারটা আসলেই খুব ভালো লাগার। সারাদিনের কর্মক্লান্ততার পর, রাত যেন নিজের হয়ে আসে। শুধুমাত্র নিজের।

স্কুলে যখন পড়তাম, খুলনা শহরের কোন এক গলির শেষ প্রান্তে ছিলো আমাদের বাসা। সমস্ত গলি ঘুমে তলিয়ে গেলেও রাত জেগে পড়তাম। সকালে পড়তে পারতাম না যে! জানালা খুলে দিলে আসতো হু-হু বাতাস। যেন হাড়ের উপর সরাসরি কোমল ছোঁয়া লাগিয়ে দেবার অনুভূতি। এক বাসা ডিঙ্গিয়ে পাশের বাসায় গরু পুষতো। দোতলার জানালা দিয়ে আমার দৃষ্টি তখন পাশের একতলা বাড়ির ছাদ টপকে শুধু গরুটিকেই দেখতো। গরুটাই তখন রাত জাগার একমাত্র সাথী। নানাকে তাই গোটাগোটা অক্ষরে চিঠি দিয়েছিলাম, “সারা পাড়ায় আমি আর গরুটা ছাড়া আর কেউ জেগে নেই।শুনে সবাই খুব হেসেছিলো! তাতে কী? ‘আর্লি-টু-বেডমেনে চলা পুরো চেনাজানা-স্বজনে নানা-ই যে রাতজাগা-ভালোলাগা একমাত্র মানুষ তখন। অন্য কাউকে কী ভাবে লিখি একথা?

এখন আমার ঘরটা অনেক বড়। পাশের ঘরটা আরও বেশি বড়। সেটি ফাঁকা থাকে। কখনও কখনও অনেক রাত ধরে আমার একা একা হেঁটে বেড়াবার অনেক প্রিয় জায়গা হয়ে পড়ে এ দুঘর। আটপৌরে জীবন, তার বোধগম্যতা বা বোধহীনতা, কিংবা অনিশ্চিত ভবিষ্যত- এসব নিয়ে বিছানায় গিয়ে চিন্তা করতে গেলেই ঘুমিয়ে পড়ি। হেঁটে হেঁটে ভাবলে, সেই ভয়টা থাকেনা। ভাবনাগুলো ডানা মেলে ইচ্ছেমত। কখনও বারান্দায় যাই। দিনের বেলা যে টবগুলোর দিকে দ্বিতীয়বার তাকানোর সময় পাইনা, সেগুলোর উপর জন্মানো গাছগুলোকেই ছুঁয়ে দেখি। ভালো লাগে। কখনও অনেক রাতে বন্ধুদের ফোন করি। প্রায় সবাই এখন নিদ্রাদেবীর কোলে মাথা রাখে-দেহ রাখে বিছানায়। তবুও, কেউ কেউ জেগে থাকে। যেমন, সিফাত ! মাসের মধ্যে অনেকগুলো রাত অফিসে কাটায় সে-নাইট শিফট থাকলে, কখনও তাকে ফোন করা হয়। গল্প হয়। পাশের বাড়ি কোন বাচ্চাও কেঁদে ওঠে কখনও। মা তার তাকে শান্ত করার জন্য ফিসফিস করে ওঠেন। ক্রমশ সেটিও মিলিয়ে যায়। কুকুরের ডাক শোনা যায়। বাসাটা মেইন রোডে না হলেও কেন জানি সারারাতই মানুষ চলে সামনে। গাড়ি চলে। রাতপ্রহরীর বাঁশি বাজে। তারা আমার জানালার নিচেই বিড়ি ফুঁকে। অন্ধকারে ভালো দেখিনা তাদের। ঈদের বখশিসের মৌসুমেই শুধু দিনের চেহারায় দেখি তাদের। গত শীতে এক পাগলী এসে জানালার নিচে ইচ্ছে মত কী সব জানি বলতো। শুনতাম। বাসার সবার ঘুমের সমস্যা হতো। আমার হতনা। ঘুমিয়ে পড়লে পৃথিবী দুলে উঠলেও হয়তো টের পাবোনা হয়তো। ক্লান্তিসুখের ঘুম! সুখী মানুষ? পাগলীটা এখন আর আসেনা। মনে হয়, সে সেই সব পাগলদের একজন-যারা শুধু শীতকালেই পাগলামো করে।

আমার পিসিতে একটা গানের ফোল্ডার আছে- তন্দ্রাহারা রাত। পুরনো দিনের বাংলা গানের ছোট্ট একটা সংগ্রহ। নিস্তব্ধতা আরও নেমে এলে চালিয়ে দিই উইন্যাম্প-এ। শাফল মুডে বাজতে থাকে, যতক্ষণ আমি জেগে থাকি, কিংবা যতক্ষণ ইলেকট্রিসিটি থাকে। ইউপিএস নেই যে আমার! ইলেকট্রিসিটির যাওয়া আসাটা আমার রাতের রুটিনকেও পরিবর্তন করে দিয়েছে। রাত দশটায় সে চলে গেলে ঘুমিয়ে পড়ি। কখনও রাত শেষ হবার ঠিক আগের প্রহরে উঠে পড়ি। নেটে ঘুরি। ব্লগ পড়ি। গান শুনি। কখনও একবারে সকালটাকেই দেখি।

গানেরও হাজার রকম পছন্দভেদ আছে। কত ধরণের গান। কত ধরণের শ্রোতা। তবে বিরহের গানগুলো-ই মনে হয় বেশির ভাগ শ্রোতার মন ছুঁয়ে যায়। তন্দ্রাহারা রাতফোল্ডার থেকেই একটি গান। গানের গলা- খুব সম্ভবত হৈমন্তী শুক্লার।

গভীর রাতে জাগি খুঁজি তোমারে

দূর গগনে প্রিয় তিমির পারে।।

জেগে যবে দেখি হায় তুমি নাই পাশে
আঙ্গিনায় ফোটে ফুল ঝরে পড়ে আছে।।
বান বেঁধা পাখি সম
আহত এ প্রাণ মম
লুটায়ে লুটায়ে কাঁদে অন্ধকারে

দূর গগনে প্রিয় তিমির পারে।।
গভীর রাতে জাগি খুঁজি তোমারে।

মৌন নিঝুম ধরা, ঘুমায়েছে সবে
এসো প্রিয় এই বেলা বক্ষে নিরবে
কত কথা কাঁটা হয়ে বুকে আছে বিঁধে
কত অভিমান কত জ্বালা এই হৃদে
দেখে যাও, এসো প্রিয়
কত সাধ ঝরে গেলো
কত আশা মরে গেলো হাহাকারে।

গভীর রাতে জাগি খুঁজি তোমারে
দূর গগনে প্রিয় তিমির পারে।।

রবিবার, ২১ মার্চ, ২০১০

ভাবনা - ২১ মার্চ ২০১০

ভালো কিংবা খারাপ
হয়তো খারাপ বাদ দিলাম
পুরোটা খারাপ বাদ দিতে পারি কি?
পারিনা, তবে চেষ্টা করতে পারি।
চাই কি?

আর ভালো’র মধ্যেও
আরও কিছু বাদ দিতে হবে।
দিতে হবেই।
সময় অল্প...

শুধুমাত্র মাটি দিয়েই নাকি আদম সন্তানের চাহিদা পূরণ সম্ভব।

বৃহস্পতিবার, ১৮ মার্চ, ২০১০

♫ ♫ ♫ ভালোবাসি বলেই ভালোবাসি বলিনা।

ভালোবাসি বলেই ভালোবাসি বলিনা।

.
দু’চোখের বরষ হয়ে মিশে আছো তাই

তোমারে খুঁজিতে তাই নয়ন মেলিনা

.
জীবন মরুভূমে একাকী তরুর মত

অসহায় শাখা মেলে আকাশে চেয়েছি কত

বরষার মত এলে

ভরে দিলে ফুলে ফলে

শিকড়ে মিশেছো বলেই তাই চলিনা।

.
নদী কুলু কুলু জানে

বনানীও মর্মরে

হৃদি জানে স্পন্দনও

আঁখি ঝরঝর ঝরে

ভাষাহীন ভাষা দিয়ে

হৃদয়ে ভরেছো হিয়ে

কথার ছলনা দিয়ে তাই চলিনা ...

.
ভালোবাসি বলেই ভালোবাসি বলিনা

দু’চোখের বরষ হয়ে মিশে আছো তাই

তোমারে খুঁজিতে তাই নয়ন মেলিনা।

.

[হৈমন্তি শুক্লা'র গান]

বৃহস্পতিবার, ১১ মার্চ, ২০১০

♫ ♫ ♫ রাজশ্রী – ৪ ♫ ♫ ♫

আজ থেকে এক হাজার শীত-বসন্ত শেষে

এই পথেই যদি আসি আবার ...

সঙ্গে সেই স্মৃতি ভার

রঙচটা সেই গীটার

সেই অহংকার আগুন, সেই জোয়ার

হয়তো সব থাকবে সেই আগেকার মতই

পাবো কী দেখা রাজশ্রী তোমার? ...

হয়তো পথের ধারে, পাবো বারে বারে

আমার শৈশব কৈশোর মলিন

পাবো মায়ের আঁচল, প্রিয়া বধুর কাজল

অগভীর ধানসিঁড়ির দিন প্রতিদিন

থাকলে একলা চলা, নয়তো সঙ্গে বলা

থাকবে হাজার পাগলামী আমার

হয়তো সব থাকবে সেই আগেকার মতই

পাবো কী দেখা রাজশ্রী তোমার? ...

হয়তো সন্ধ্যা এসে, প্রকৃতির আদেশে

নিথর কৃষ্ণ নীল রঙ ছড়াবে

হরবোলা এক পাখি থামিয়ে ডাকাডাকি

হঠাৎ স্তব্ধতার গান শোনারবে

ফিরবো সেই পথেই আবার, সঙ্গে সাত সাগর বাধার

সঙ্গে সেই স্থির মন ঢেউ গোনার

হয়তো সব থাকবে সেই আগেকার মতই

পাবো কী দেখা রাজশ্রী তোমার? ...

আজ থেকে এক হাজার শীত-বসন্ত শেষে

এই পথেই যদি আসি আবার ...

[নচিকেতার গান]