শনিবার, ২৯ মার্চ, ২০০৮

আজকের ব্লগ


অফিসে অন্যান্য সিনিয়রদের পেটের সম্মুখগামী স্তরীভুত চর্বির অবস্থান দেখে আমার ডিরেক্ট-বস মাঈনুল ভাই ডায়েট কন্ট্রোলে মনোযোগী হবার আপ্রান চেষ্টা চালাচ্ছেন! প্রায়ই সকালের নাস্তা বাদ দেন তিনি! অফিসে এসে, বাকি সবাইকে শর্করা জাতীয় খাবারে নিরুতসাহিতকরণও ইদানিং তার একটা শখ ! সেদিন আবার দেখলাম, নিমগ্নচিত্তে হার্বাল ওষুধের উপর পড়াশুনাও করছেন! আমি সকালে পরোটা-কেক খাই!

ইস্‌শিরে! এই সব জাংক ফুড যে মানুষ কেমনে খায়! তিনি আমাদের অজ্ঞতায় উষ্মা প্রকাশ করেন, ফ্রুটস খাও!

আপনি সকালে কি খেয়েছেন? সন্দেহ প্রকাশ করতেই হয়, কারণ উপদেশদাতার নিজের অবস্থান জানাটাও অত্যন্ত জরুরী!

আজ কিছুই খাইনি, আশ্বস্ত করেন তিনি, তবে কাল থেকে আঁশযুক্ত ফল খাবো! পেটও ভরবে, আবার স্বাস্থ্যকরও!

নারকেলের ছোবড়া খেয়ে দেখতে পারেন! আঁশগুলো মজবুত!, আমার বুদ্ধিটা বোধহয় তার খুব একটা পছন্দ হয়নি!

***

চাকরী সুবাদে এখন ব্যস্ততা বেড়েছে! আবার উত্তরার মত গ্রামাঞ্চলে থাকার কারণে অন্যদের সংগে যোগাযোগ অনেকটাই কমে গেছে! তাই বেশ কিছুদিন পর পর আত্মীয়স্বজন-বন্ধুদের সঙ্গে মোলাকাত হয়!

হায় হায়! তুমি দেখি শুকিয়ে একেবারে কাঠি হয়ে গেছো!, আমাকে দেখে সবারই প্রাথমিক প্রতিফলন এরকম!

কই? না তো? আমার তো মনে হয়, আমি ঠিকই আছি!, জবাবটাও আমার মুখস্ত!

না না! তুমি খুব শুকিয়ে গেছো। ওজন কত এখন? কত কমেছে?, প্রত্যেকেই কেন যেন হুবহু একই প্রশ্ন করে!

আমার ওজন কমেনি। আগে যা ছিলো তা-ই আছে! এখন ৭২ কেজি, নির্লিপ্ত গলায় বলার চেষ্টা করি! আর প্রশ্নকর্তাকেও চমকে দিই, আর, BMI ২৫ এর আশেপাশে!

হায় হায়! তুমি দেখি মোটা হয়ে যাচ্ছো! শীঘ্রই ওজন কমাও!, মিনিটখানেকের মধ্যেই প্রশ্নকর্তার বুঝি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বাগধারাটা স্মরণে আসে!

মুটিয়ে শুকনো কাঠি হয়ে যাচ্ছি আমি!

কি করি উপায়?

বৃহস্পতিবার, ১৩ মার্চ, ২০০৮

বেগে-আবেগে-ভীষণবেগে...




কে নাকি একবার বলেছিলো, কোন দেশ কতটা উন্নত সেটা নাকি বোঝা যায় তার পাবলিক টয়লেটের অবস্থা দেখে! একেবারে ‘ফর্মালিনযুক্ত’ খাঁটি কথা! এই দেশের কথা আর নতুন করে বলার দরকার আছে কি? পুরো ঢাকা শহরে সিটি কর্পোরেশনের আওতায় পাবলিক টয়লেটের সংখ্যা মাত্র ৩৪! আর সেগুলোর যা অবস্থা! “দূর্গম গিরি, কান্তার মরু” ও হয়তো পার হওয়া যায়কিন্তু ওইগূলোতে ঢুকতে হলে বুকে ‘হিম্মত’ লাগে আর নাকে এক বক্স সুগন্ধী রুমাল! তবে অবস্থা এখন অনেক ভালো ... শপিং এর ভান ধরে মার্কেটগুলোতে ঢু মেরে কাজটা সেরে আসা যায়! এত্তো এত্তো মার্কেট ঢাকা শহরে! সব আমাদেরই জন্য! তবুও, বুঝিনা... এর পরেও কেন যে “প্রকৃতির সন্তানেরা” এই ‘সিমেন্টের জঙ্গলে’ও “বাঁশঝাড়-থিওরী” এপ্লাই করে অকুস্থলেই “কম্মো” করে?! আল্লাহ তাদের সুমতি দিন! আর ... দয়া করে সায়েন্সল্যাব ফুটওভারব্রিজের উপরেই থাকবেন সবসময়!

ভাবছেন, এত বিষয় থাকতে এইটা নিয়ে ব্লগ লিখতে চাচ্ছি কেন? উহু! ব্যাপারটাকে হালকা করে নিলেই খাবেন ধরা! এজন্যই হয়তো, প্রখ্যাত টিভি উপস্থাপক ‘হানিফ সংকেত’ একবার তার ‘ইত্যাদি’তে একজন রাজনৈতিক নেতাকে দিয়ে পাবলিক টয়লেট উদ্বোধন করিয়েই ছাড়লেন! বিষয়টার হিউজ হাইজিনিক কনসার্ন তো একেবারেই অবিভাজ্য!

ফাইনাল ইয়ারে থিসিস করার সময় সবাই চমতকার সব বিষয় নিয়ে থিসিসে ঝাঁপিয়ে পড়লো! কিন্তু এক ছেলে, ম্যাডামের কাছে গোঁ ধরলো, “পাবলিক টয়লেটের উপরই কাজ করতে চাই!” ম্যাডাম তো মহা খুশি, “হমম! এই ব্যাপারে কাজ হয়েছে একটু কমতোমার আগ্রহ দেখে ভালো লাগছে। তো লেগে পড় ঝটপট!” ‘চাল্লু’টার উপর ম্যাডাম এতই খুশি ছিলেন যে, প্রেজেন্টেশনের দিন ‘রাগ্‌ড-ক্যাজুয়াল’ ড্রেসের প্রেজেন্টারও আয়েশে A+ বাগিয়ে নিলো! ছেলেটা নেট খুঁজে ‘আস্ত’ একটা থিসিসপেপার পেয়ে গিয়েছিলো এর উপর! আমাদের আফসোসটা ও বাড়লো সমানুপাতে! অন্য অনেক ‘উন্নত’ বিষয় নিয়ে থিসিস করে অনেক অনেক বেশি শ্রম দিয়েও গ্রেড ঊঠাতে বেগ পেতে হয়েছে আমাদের!

এদিকে অনেকে আবার ব্যস্ত সময়ে এই ‘প্রিয়’ জায়গাটাতে অনেক সময় কাটিয়ে দেন

অফিসে আমরা জামাত করে নামায আদায় করিজামাতের ওয়াক্ত এলেই একযোগে সবাই ‘একদিকেই’ সশরীরে ধাবিত হই! কিন্তু শরীফ সাহেব আগে ঢুকলেই কাহিনী প্যাঁচ খেয়ে যায় তখনি! বাইরে অপেক্ষা করতে হয় ... টাইম ডায়ালেশন ঘটে তখন! অস্বীকার করা অবান্তর, মাঝে মাঝে দরজাটা ভেঙ্গে ফেলতে ইচ্ছে করে!

আমার পিছনে লাইনে থাকা মোস্তফা ভাই প্রায়ই অসহিষ্ণু, “ভিতরে কে?”

আমি তড়িত জবাব দিই, “বার্লিন প্রাচীরের ওইপাশে শরীফ ভাই!”

“আসো! আমরা বার্লিন প্রাচীর ভেঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক পুন:প্রতিষ্ঠা করি!” বিপ্লবের ডাক তার কন্ঠে!

সভ্য সমাজ নাকি অনেক ভালো! কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের মত চমতকার সভ্য জায়গার অবস্থা শোচনীয় এরও নিচে! ‘ঢাবি’র কোন হলের টয়লেট নাকি এমনই অন্ধকার যে, আমার এক বন্ধু বললো, আগে টয়লেটে ঢুকে হাতড়িয়ে ইট খুঁজে তার উপর আলতোভাবে পা রাখতে হয়! এদিকের হলগুলোর কমন টয়লেটও মাঝে মাঝে ‘দূর্গম’ অঞ্চল হয়ে উঠতো “পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অংগ”--- এই ধরণের চমতকার কোটেশন দেয়ালে মেরে রেখেও যখন কিছু হচ্ছিলোনা, তখন সমস্যার আশু সমাধানে এক ‘গুনী’ টয়লেটের দরজার ভিতর দিকে প্রিন্ট-আউট কাগজে চিকা মেরে দিলো,

“কিছু ফেলে গেলেন কি?”

***

কার্টুনটা উন্মাদে সৌজন্যে

***

পুনশ্চঃ বুয়েটে এইসব নিয়ে ঢের পড়াশুনা করতে হয়েছে! ইঞ্জিনিয়ার হবার ঝক্কি অনেক! অনেক রকম ল্যাট্রিনের গঠন নিয়েও পড়তে হয়েছে! তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটা হলো, VIP-ল্যাট্রিনবলুন তো, VIP এর অর্থ কি হতে পারে? ১০-১২টা কমেন্টস এর পরেই উত্তরটা না হয় দিই?!

মঙ্গলবার, ৪ মার্চ, ২০০৮

বাসে...

অফিস থেকে বেরোতে বেরোতে প্রায়ই সন্ধ্যা পার হয়ে যায়। ফিরতি পথে লোকাল বাসের ঝাকুনির বদলে কাউন্টার সার্ভিস বাসে উঠলে চমতকার একটা ঝিমুনিভাব চলে আসে! কিন্তু ঘুমানোর সাহস হয়না! আশেপাশে না জানি কত ধরণের পার্টি ঘুরে বেড়ায়! সর্বস্ব এমনকি জানটা ও সুলভে নেবার জন্য ওদের ব্যপক পরিচিতি আছে। তাছাড়া ঘুমিয়ে পড়লে আরো প্রবলেম হয়! অদ্ভুতুড়ে শারীরিক পরিস্থিতিতে ঘুমালে ঘাড়ে ব্যথা হওয়াটা একেবারেই বিল্ট-ইন! আর আচমকা যদি বাস ব্রেক করে, তাহলে ঘুমন্ত ব্যক্তি সামনের সিটের রডে আচমকা ধাক্কা খেলে বিভৎস অবস্থার সৃষ্টি হওয়াও বিচিত্র নয়! সেদিনও, হঠাত করেই বাধ্যতামূলক বাস ব্রেক করার পর, রড ধরে ঝুলে থাকা লোকটা এক হাত দিয়ে আরেক হাত ধরে ত্রাহি চিতকার দিলো, আল্লাহ রে! আমার হাত ভেঙ্গে গেছে! লোকটার হাত যদিও ভাঙ্গেনি, একটু মচকা লেগেছে! কিন্তু এ ঘটনা দেখে আরেকজন সিটে বসে থেকেই ফিট হয়ে গেলো!

ঝিমিয়ে পড়েছিলাম এই দিনও!

হঠাত দেখি কোলের উপর দুইটা চকলেট পড়লো! বাসের ছাদের দিকে তাকালাম, ছাদ ফুটো হয়ে চকো-রেইন হলো কিনা কে জানে! ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য একটা আকর্ষণীয় কাহিনীর সুত্রপাতের ইঙ্গিত! ছাদের ফুটো-টুটো কিছু নয়, একটা মধ্য-বিশের একটা মেয়ে! ধূলিমলিন দৈন্য জর্জরিত পোষাকে মোটামুটি আকর্ষণীয় গড়ন। সে-ই সবার উপরে চকোলেট ছুড়ে দিচ্ছে! কোন কথা না বলেই! কিছুলোক বিভ্রান্ত, কিছু নির্বিকার আর আমার মত কিছুলোক চিন্তাশীল!

প্রথম থেকে চকোলেট দেয়া শুরু করে সর্বশেষের সিটে এসে সে মুখ খুললো, ভাইয়েরা, এবার আমার চকোলেটের দামটা দেন!মেয়েটির বিজনেস পলিসি সিম্পল এবং কার্যকর! কারণ, আমরা বাংগালীরা কাজের সময় একটু মুখচোরা, তবে ঝগড়ার সময় মনের বদ্ধ-অর্গল খুলতে অনেক অকৃপণ! ফলে চকোলেট ফেরত দেবার ইচ্ছে থাকলেও ফেরত দিতে লজ্জা পায় অনেকেই! তাই, পকেট থেকে দুটি টাকা বের করাটাকেই তুলনামূলক সহজ মনে হয় অনেকের কাছে! মোটামুটি সবাই কিনলো তার চকোলেট!

মেয়েটি ঝটপট টাকা কুড়িয়ে নেমে গেলো বাস থেকে!

মেয়েটার প্রতি একটু বিরক্ত হলাম! এইভাবে চকলেট বিক্রি করার কারণে! খানিকটা ইমোশনাল ব্লাকমেইলিং এর ছোঁয়া! কিন্তু বাস থেকে নেমে যাবার পরই আবছা আলোতে মেয়েটাকে দেখেই মনে হল, এ বয়সী মেয়েরা অভাব-অনটনের কারণে আবছা নয়, একেবারে ঘুটঘুটে অন্ধকারে পা বাড়াতে বাধ্য হয়! কিন্তু এ তো নিজের চেষ্টাতেই ভাগ্য ফেরানোর প্রাণান্তকর চেষ্টা করে যাচ্ছে!

ওঁর জন্য শ্রদ্ধা জাগলো মনে!

***

“OPTION” শব্দটার বাংলা অর্থ কি? খুঁজে পাচ্ছিনা! কেউ কি জানেন?

***

photo-courtesy: http://www.charliesbirdblog.com/~charlie/DAC04oct05/zoo_entrance.jp

বুধবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০০৮

কোনটা??




অফিসে এখন একটা জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে!

মোস্তফা ভাই কোথা থেকে যেন শুনে এসেছেন, বিয়ের সময় মেয়েরা নাকি কবুল বলেনা!

তারা নাকি বলে, আলহামদুলিল্লাহ!

ততক্ষণাত দ্বিমত-ত্রিমত হাজির! মধ্যমতের লোক ও ছিলো...!

বিয়ে বাড়িতে যাবার অভিজ্ঞতা আমার কম! তাই জ্ঞানীর ভান ধরে চুপ থাকি!

বিতর্কটা হচ্ছিলো এমন দিনে, যেদিন মোস্তফা ভাই বিগতদিনের দাওয়াত পাওয়া বিয়েবাড়ির ভুরিভোজনের ওজন দিচ্ছিলেন আর সুরাইয়া আপা আচমকা অনুপস্থিত থেকে ফোনে জানিয়ে দিলেন, আজ আমার বিয়ে, তাই আমি অফিসে আসতে পারবোনা!

মোস্তফা ভাইয়ের মতে, মেয়েরা আলহামদুলিল্লাহ বললেই নাকি ছেলেরা কবুল বলে!

আর... আরো আশার বাণী তার ব্যাচেলর মুখ থেকে নিঃসৃত হয়, হাঁচি দেয়ার পর আলহামদুলিল্লাহ বলতে হয়। তাই, কোন অপরুপা যদি হাঁচি দিয়ে আলহামদুলিল্লাহ বলে, তখনই সঙ্গে সঙ্গে কবুল বলা উচিত! তাহলেই... ইয়াহ-হু...কেল্লা ফতে!

(আমাদের মত অনেক ব্যাচেলরই তখন মোলায়েম পাখির পালক কেনার কথা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে! নাকের নিচে পাখির পালক দিয়ে আলতো ছোঁয়া দিলে নাকি হাঁচি ত্বরান্বিত হয়!)

কিন্তু দ্বিমত এলো...নাটক সিনেমায় নায়িকারা চোখের পানিতে নতুন শাড়ি নষ্ট করে কবুলই বলে... তার অপোজিশন মাঈনুল ভাই ও শক্ত পার্টি!

ধুর মিয়া, সিনেমায় কত কিছু হয়! নায়ক নায়িকার মধ্যে ইশকু-ইশকু ঘটলেই আশেপাশে জ্বীন-ভুতের দল বাদ্যবাজনা বাজায় আর তারা গোলাপডালের পাশে নাচতে থাকে! যতসব আজগুবী!

বিতর্কের বিষয়বস্তু অন্যদিকে মোড় নেয়।

আমি তখনও চুপ!

কোথায় যেন পড়েছিলাম, বোকারা তর্ক করে আর জ্ঞানীরা প্রশ্ন করে!

তাই, অনলাইনে প্রাণোচ্ছল এক বালিকাকে একই প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করলাম,

কেন? কবুল বলে তো!,মেয়েটার জ্ঞানের গভীরতা প্রকাশ পায়!

তুমি নিজে কি বলেছিলে?, আরো স্পেসিফিক হই!

আমার তো বলার সুযোগ আসেনি এখনও, মেয়েটার আফসোস হৃদয় ছুঁয়ে যাবার মত!

আহা! তোমার প্রাণভোমরা যখন তোমাকে সম্মোহনী প্রস্তাব দিলো, তখন কি বলেছিলে?,জানার কোন শেষ নাই!

তখন? তখন একটু অন্যভাবে হেসেছিলাম! যার যা বোঝার, বুঝে নিলো। আহা! প্রতিদিন কতইনা নতুন জ্ঞান বাড়তে থাকে আমার!

পরেরদিন অফিসে সুরাইয়া আপাকেই প্রশ্ন কামান দাগালাম, আপনি কি বলেছিলেন, আপু?

আলহামদুলিল্লাহ, কবুল!

***


জানার আছে অনেক কিছু ...

বাংলা সিনেমায় নায়ক আর সাব-নায়করা অবারিত গুলি খেয়েও না মরে, নিজেরাই পুরা গুন্ডাদলকে নাস্তানাবুদ করার পর আখেরি পোচ দেবার ঠিক আগে শেষদৃশ্যে পুলিশ কেন বলে, আইনের হাত অনেক লম্বা, তাই আইন নিজের হাতে তুলে নেবেননা? পুলিশ কেন কখনই আগে আসেনা?

কারণ, আইনের হাত অনেক বড় হলেও পা একটু ছোট! তাই আসতে একটু দেরী হয়ে যায়!

তাহলে লম্বা হাতে অপরাধীদের আটকালেও তারা প্রায়ই ছাড়া পেয়ে আবার অপকর্মে নিয়োজিত হয় কেন?

কারণ, কোন জিনিষ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি লম্বা হলে তার শক্তি খানেকটা কমে যায়! তাই মাঝে মাঝে হাতছাড়া হয়ে যায়!

***

বৃহস্পতিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০০৮

ভালো রকম বাসার ব্লগ!



বাসা ভালো? হমম! বড়মামা বিয়ে করবে বলে বড়বাসায় উঠবে। সেজন্য বাসা খুঁজতে গিয়ে নানারকম অভিজ্ঞতা হয়ে গেলো। ভালোবাসা খুঁজে পাওয়া শক্ত! কিন্তু এই ভালো-বাসা নাকি সেই ভালোবাসা না! সিভিল ইঞ্জিনিয়ার মানুষ, ভালোবাসা-খারাপবাসার সম্পর্কে কিছু জ্ঞান রাখি! কিন্তু শুধু ভালোবাসা...? ব্যাপারটা বরাই আমার কাছে অবোধগম্য! কিন্তু আহা, অমোঘ চিত্তচাঞ্চল্যে ভার্সিটি এলাকাটা তো ভাসাভাসি-বাসাবাসির ন্যাশনাল হেরিটেজ-অভয়াশ্রম হয়ে গেলো! সন্ধ্যার পর ওই এলাকা দিয়ে আসতে হলে রিক্সাওয়ালার প্যাডেল এর সৌন্দর্য অবলোকন করে ঈমান-আকিদা ঠিক রাখতে হয়!

যাইহোক, গায়ক নচিকেতা বলেছে,

ভালোবাসা হলো পিটুইটারির খেলা,

আমরা বোকারা বলি প্রেম!

সাধু সাধু! বিজ্ঞানের ছাত্র হিসাবে ব্যাখ্যাটা পুরোটাই গ্রহনযোগ্য! মস্তিষ্কের ভিতর বহুবিধ গ্রন্থির অযাচিত ক্ষরণেই এই প্রেমরোগের জীবাণু মনে বাসা বাধে! ব্যাপার না! জীবানুর ভ্যাক্সিনেশন করা আছে আমার! কিন্তু আবার, রাস্তাঘাটে কেউ একটু নমনীয় হাসি দিলেই মনে হয়, অর্ধেক ভালোবাসা হয়ে গেছে! কিন্তু বাকি অর্ধেকের জন্য যে একটু মেহনত করতে হয়, সেটা আর ইচ্ছা করেনা! বুয়েটে পড়ে আলসের শিরোমনি হয়ে গেছি! সকালে উঠলে নাস্তা করতে দোতলা থেকে নিচে নামতে হবে বলে, জোর করে চোখ বন্ধ করে আবার ঘুমিয়েছি! গন্তব্যঃ একবারে দুপুরের ডাইনিং!

কিন্তু এদিকে আবার, পোলাপান তো স্কুলেই ভালোবাসার প্রথম পাঠ নিয়ে ফেলে। হাইস্কুলে উঠার পর দেখলাম, বন্ধুরা আশেপাশে মিসকল দেয়! কিন্তু নিজের আর প্রেমপত্র লেখার সাহসে কুলোয় না! সুযোগ এলো অচিরেই ... এক পাড়াতো বড়ভাই বললো, তার জন্য একটা প্রেমপত্র লিখে দিতে! বেচারা এক মেয়ের প্রেমে বুঁদ! আর আমি তখন ইঞ্জিনিয়ার হবার বাসনা নিয়ে অংকে টেনেটুনে পাশ করে বাংলায় ছক্কা হাকাই! দুধের সাধ ঘোলে মেটানোর বাসনায় সানন্দে রাজী হলাম! নিজের হাতেই ইনিয়ে বিনিয়ে নানা-প্যাচাল পাড়ার পর ভুল করে নিজের পরিচয় দিতে যাচ্ছিলাম ... ইতি বাপের একমাত্র ছেলে আরাফাত! কিন্তু আচমকা খেয়ালে সামলে নিলাম সবকিছু, পত্রখানি আমার না! বড়ভাইয়ের! তাই লিখলাম, ইতি বাপের একমাত্র বড়ছেলে রুশো! আহা! নব্য প্রেমিকের এহেন উপস্থাপনশৈলীর নমুনা পেয়ে বালিকা স্বাভাবিক আবহাওয়াতেই গলে গেলো। আর আমি পারিশ্রমিক হিসাবে কিঞ্চিত আপ্যায়িত হলাম! সুবহানাল্লাহ!

আহা! আমাদের বায়েজিদ! বেচারা যে মেয়ের দিকেই ভালোবাসার চাতক চক্ষু দিয়ে চায়, তার ভাগ্য খুলে যায়! কিছুদিনের মধ্যেই সে সুপাত্রে গমন করে! বেচারা একটা বিজনেস এজেন্সী খুললে কণ্যাদায়গ্রস্থ মেয়ের বাবাদের কাছ থেকে টু-পাইস কামাতে পারতো! বাবা! আমার মেয়েটার দিকে একটু নেকনজর ফেলো তো, মেয়েটার একটু গতি হোক!

মনন বেচারা ফোনে ফাইট দিতো এক অল্পবয়সী সুহাসিনী এর সংগে! মেয়েটা গানে মিনিপ্যাক রুনা লায়লা! একবার যদি ‘Play’ করতে বললে ‘Pause’ বাটন প্রেস করেও থামানো দূষ্কর। রাত বারোটা থেকে সকাল সাতটা পর্যন্ত ফোন ফাইট! তারপর দেখা করতে যাওয়া! গভীররাতে পড়াশুনার ফাে টায়ার্ড হয়ে গেলে, আমি আর সিফাত যেতাম ওর রুমে! বেচারা মনন আর্জি জানাতো, উফফ! গান শুনতে শুনতে কান গরম হয়ে গেলো, এখন তোমরা একটু শোন তো! তখন তো আর FM রেডিও চ্যানেলের এত চল ছিলোনা। মেয়েটাই ছিলো আমাদের লেট-নাইট FM সুরলহরী!

প্রেমের ব্যাপারটা অনেকটা অর্থনীতির মত! ধণী আর গরীবের বিস্তর ব্যবধান! ধনীরা শুধু কামিয়েই যাচ্ছে আর গরীবরা প্রকারান্তরে আরো গরীব! গ্রামাঞ্চলে গরীবদের জন্য VGF কার্ডের ব্যবস্থা আছে! আমাদের মত যাদের কোন গতি নেই , তাদেরও VGF কার্ড দেয়া উচিত! VGF মানে হলো Vulnerable Group Feeding!

সবশেষে, সফল ভালোবাসার পরিণতি কি?

ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিয়ুন...

বিবাহের পূর্বে তাহাদের বয়স হইয়াছিলো...!

যাইহোক, বেকন বলেছেন, একই সঙ্গে প্রেমিক আর জ্ঞানী হওয়া সম্ভব নয়!

নো ডাউট... আমি বরাবরই একজন যথার্থ জ্ঞানী ব্যক্তি!

(image courtesy: http://femiadi.files.wordpress.com/2006/11/p1080802.JPG)

সোমবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০০৮

দুইটি অফিসিয়াল ব্লগ!


কয়েকদিন বেশ নাস্তার ম্যানেজারী করলাম অফিসে!

সপ্তাহওয়ারী ম্যানেজমেন্ট নাস্তার টাকা ধরিয়ে দেয় আর আমাদের ভিতরই একজন সেটার সঠিক বন্টন করে!

জানুয়ারী মাসে দ্বায়িত্বটা ছিলো আমার।

কিন্তু বার্ড-ফ্লু এর ভয়ে মুরগী ও ডিমজাত নাস্তার বিরুদ্ধে আন্দোলনের হিড়িক! নাস্তার আইটেমের ভেরিয়েশনের অবশ্যম্ভাবী সংকোচন! আমার নিজের অবশ্য ডিম-মুরগীতে আপত্তি ছিলোনা।

কিন্তু জামাল ভাই বলেন, বার্ড-ফ্লু তে মরতে চাইনা! এই রোগে মরলে আর মানসন্মান আর থাকবেনা! গ্রেভইয়ার্ডে আমার এপিটাফে থাকবে-- এইখানে মুরগী-হৃদয়ামাল শুয়ে আছেন যিনি মুরগি রোগেই ইন্তেকাল ফরমাইয়াছিলেন!

তার দাবী যৌক্তিক! মেনে নিয়ে আমি বলি, তাহলে আপনার জন্য টাইগার-ফ্লু তে মরার ব্যবস্থা করতে পারলে ভালো হত! আই আম সরি, সে ব্যবস্থা আপনার জন্য আপাতত করতে পারছিনা! বাকিদের পুডিং খেতে প্রবলেম নেই। আপনার জন্য কি ইন্তেজাম করবো? সমমূল্যে আপনার জন্য গোটা আষ্টেক সিংগাড়া হয়! আনাবো?

জামাল ভাইয়ের জবাবের আগেই আশিক ফোড়ন কাটে, অন্য পশুপাখির ফ্লুতে মইরা আর কি হইবো? তার চেয়ে নিজের নামের ফ্লু-তেই মরেন। কাউ-ফ্লু রোগে মৃত্যু!

***

এখানে কি স্বামী মারা থাকেন?

জি?!” :O

বলছি, এখানে কি স্বামী মারা বেগম নামে কেউ থাকেন?

নাহ! এইরকম অদ্ভুত নামে এখানে কেউ থাকেনা

পোস্টম্যানের এই রকম অদ্ভুত ইনকোয়ারীতে আশ্চর্য হওয়া অতীব প্রয়োজনীয় এবং সর্বসম্মতিক্রমে বাঞ্চনীয়!

আমাদের অফিসের পিয়নের ও চোয়াল ঝুলে গিয়েছিলো আশংকাজনকভাবে!

কিন্তু খামের গায়ে যে লেখা আছে, স্বামী মারা বেগম, সামি ইনজিনিয়ারিং; সেক্টর ৬ রোড... উত্তরা, পোস্টম্যান নিজের মতাদর্শে অটুট।

দেখি?! অফিস-স্টাফ কিছুটা মোলায়েম।

পোস্টম্যান খামটা এগিয়ে দেয়...

সেখানে জাজ্বল্যমান... SHAMI-MARA-BEGUM!

দেখছেন? স্পষ্ট লেখা স্বামী মারা বেগম! আত্মবিশ্বাসের চূড়ামনি ডাক-ভাই!

শেষে চিফ-ইঞ্জিনিয়ারের শরণাপন্ন হতেই হলো ...

তিনি শুধু হাইফেনটার ক্রমবিচ্যুতি ঘটালেন... “SHAMIM-ARA-BEGUM!”

আইভি আপার কেতাবী নাম শামীম আরা বেগম!

বাকি ঘটনা বুঝিয়ে বলতে হবে আর?

***

রবিবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০০৮

চুক্তি




কোন এক উদ্ভাসিত বিকালে অনিবার্য কারণে মনির মনটা খুবই উল্লসিত।

এইবেলা এই সুযোগে আমিও তাকে আঁকশি দিয়ে আটকালাম, দোস্ত! তোর মনটাতো এখন খুবই ভালো। আয়, সেলিব্রেট করি! ফালুদা খাওয়া!

মনি আবার কোন ব্যাপারেই না করতে পারেনা। মাঝেমাঝে মনে হয়, যদি কখনও বিরাট লাশ কোন আফ্রিকান জাঙ্গল কুইন এসেও স্লাইটলি আবোভ পাঁচফুটি মনিকে পার্মামেন্ট বাহুডোরে থাকার প্রস্তাব দেয় তাহলেও হয়তো ও না করতে পারবেনা!

তবুও মনির মনটা একটু দ্বিধাগ্রস্থ, তুই যদি রিকশাভাড়া দিস, তাহলে খাওয়াবো

মনির হিসাবটা নামতা পড়ার মত খুবই সহজ। আমরা সাধারণঠাঠারিবাজারের হোটেল স্টারেই ফালুদা খেয়ে থাকি। অসাধারণ সুস্বাদু সেই অমৃত ফালুদা! আমার রিকশাভাড়া আপ-ডাউন ৪০ টাকা আর ওর পকেট খালাস দুই বাটি ফালুদা ২২ দুগুনে ৪৪! নেয়ারলি ইকুয়াল ডিস্ট্রিবিউশন অফ মানি!

আমি রাজী।

অলিখিত দ্বিপাক্ষিক পলাশীবাজার চুক্তি সম্পাদিত হলো!

রিকশা নিলাম।

কিন্তু রিকশার ডিরেকশন দিলাম উলটাদিকে এলিফ্যান্ট রোড বাটা সিগনাল! হোটেল খুশবু!

আয়েশে আমরা ফালুদা সমাপ্ত করলাম! আর বিল দেবার সময় প্রতিবারের মত আমি কাচের জানালা ভেদ করে প্রকৃতি দর্শনে মনোযোগ দিলাম! ওই কাজটা তাই যথারীতি মনি ই সারলো!

মনির মনটা একটু ভার!

আবার রিকশাযোগেই ব্যাক টু দ্য খোয়াড় মানে বুয়েট!

আপডাউন মিলিয়ে আমার খরচ ৮x২=১৬!

আর ফালুদাতে মনির খরচ ৪০x২=৮০!

পৃথিবীতে খুব কম চুক্তিই ঠিক মত সম্পাদিত হয়। কিন্তু...

এই চুক্তিটা সফল হলো।

(হাততালি প্লিজ!)

(ইহা একটি বুয়েটস্য স্মৃতিগদ্য বিশেষ!)

***

অপ্রাসংগিক প্রশ্ন... আদেশ আর নির্দেশ এর মধ্যে পার্থক্য কি?