সোমবার, ২১ জুলাই, ২০০৮

সম্পূর্ণ পারসোনাল ব্লগ


সামনে পৌরসভা নির্বাচন। যোগ্য-অযোগ্য প্রার্থীরা নিজেদের ঢাক-ঢোল নিজেরাই পেটাচ্ছেন। নিজের কাজ নাকি নিজেকেই করতে হয়, অন্যের উপর ভরসা করতে নেই! আরেকটা Social Friendship site থেকে বিদায় নিতে ইচ্ছে করছে... ভাবছি, খুব শীঘ্রই ওই প্রোফাইলটা ডিলিট করে দেবো। অথচ ওখানে পাওয়া টেস্টিমোনিয়াল গুলোকে রাখতে ইচ্ছা করছে খুব! তাই এখানে কপি পেস্ট করে দিলাম। যেন কালে গর্ভে হারিয়ে না যায় এগুলো। এটাকেও বোধহয় বলে, নিজের ঢাক নিজেই পেটানো।

এই ব্লগটা তাই খুব বেশি পার্সোনাল।

***

Person A

“Duniyar shukh mone hoi inar hat e”

Person B (1)

“he is so much innocent.......cute.......adorable.......caring........etc ....etc....likhte gele ses hobe na ...............always be with me my dear bro..... ............tui ato valo keno re bhaia????”

Person B (2)

“se amar boro bhaia............. ...ai prethibir sobtheke lokkhi bhaia....”

Person C

“arafat khub e ekta valo sele. oi din take ami ghum theke tule ash pash theke pola pan deke ene onek jhamela kore auto cad theke print korailam...se kissu mone kore nai ! tahole dekhen se kotto valo...”

Person D

“soft heart is his soft corner......”

Person E

“I have actually learnt geography from him. He has a pack of qualities but no intention to be in the lime light, a very rare virtue for all time.He is a man of strong principle & astonisingly capable of being happy with small things of everyday life.”

Person G

“ARAFAT....hmmmm..........let me think.......

he has fascinated me at first meeting.......and still fascinating me.................

only one thing i can tell abt ARAFAT is that the space given here isn't enough to describe him.......”

Person H

“my all time sessional group mate :)...a kind hearted person having awesome humor!-A free happy soul indeed!wishing ur best-keep smiling :)”

Person F

“Kind-Hearted and Hospitable, Cheerful and Well liked; moreover, Sleepy Environmental Engineer, who's proud to be called as mirror cracking material! [beauty is in the eye of beholder!!!;)], but at the same time waiting for an invisible angel as a gf!!!!! Sure, the angel will be visible in the near future, provided the testimonial is accepted, ha ha ha;)!!!”

***

* Pre-defined অনেক টেস্টিমোনিয়াল ও পাওয়া যায় সেখানে। সেগুলো সযত্নে বাদ দিলাম।

* হয়ত কোন একদিন এখানকার প্রোফাইলটাও মুছে দিতে হবে। তখন কি হবে?

* পৌরসভা নির্বাচনে নামার কোন ইচ্ছাই নেই আমার!

* ধন্যবাদ।

শুক্রবার, ৪ জুলাই, ২০০৮

চিঠি!



মৌ,

আমি তোমার ব্যাপারে অনেক শুনেছি। আমি জানি তুমি অনেক ভালো মেয়ে। আমি তোমার সাথে বন্ধুত্ব স্থাপনে আগ্রহী। তোমাকে খুজতে এসে না পেয়ে চলে গেলাম। তবে আমি আশাবাদী তুমি আমার সাথে যোগাযোগ করবে। কথা দিচ্ছি আমি তোমাকে বন্ধুত্বের নতুন এক জগত দেখাবো। তুমি তোমার নম্বর হতে আমার মোবাইলে একটা কল করো অথবা এস,এম,এস (sms) পাঠিও।

বাকি সব আমি দেখবো।

তোমার সুস্বাস্থ্য এবং সুন্দর ভবিষ্যত কামনা করি।

FM-98.06

Q.M.

T & D.

D.C.

Phone: 01717-???290

* ভয় পাবার কিছু নেই। আমি তোমার কোন ক্ষতি করবোনা। বরং উপরে উঠার সিড়ি দেখিয়ে দেব। (কথা দিলাম)

****

আহারে! এরকম একটা চিঠি পেলে অনেক মেয়েরই হৃদয়টা দুলে ওঠার কথা...

কিংবা ...

রাগে-ঘৃণায় শরীরটা রি-রি করে ওঠতেও পারে অন্য মেয়েদের!

কিন্তু ব্যাপারটা সেটা নয়!

চিঠিটা এসেছে আমার দরজার নিচে...বিনাখামে!

অফিস শেষে বাসায় ফিরে হালকা নাস্তা সেরে মাত্র দিনের কাগজটা হাতে নিয়েছি! এমন সময় মামী চিঠিটা এগিয়ে দিয়ে বললেন, চিঠিটা পেয়েছি দরজার নিচে। দেখতো কি?

আর চিঠি খুলেই যা পেলাম সেটাই প্রথমে ছাপিয়ে দিলাম!

চিঠিটা পাঠোদ্ধারের চেষ্টা করছি। মনোযোগের ব্যাঘাত মামীই ঘটালেন। হাতের লেখাটা তোমার সংগে মিল আছে!... স্বরটা নামিয়ে মামী বললেন...!

কিন্তু সেই নিচুগলার ভিতরও অন্যরকম সন্দেহের গন্ধ পেলাম, মানে?

না মানে, ইয়ে... তোমার ব্যাগ থেকে অসাবধানে পড়ে গেছে ভেবে চিঠিটা যত্ন করে তুলে রেখেছি! তোমার কাজের জিনিষ! মামী জানে আমার এক স্বল্পপরিচিতার নাম মৌ। সেখান থেকেই তিনি অনেক কিছু ভেবে নিয়েছেন! কিন্তু এখানে যে, আমি একজন নিখাদ দর্শকমাত্র, এটা বোঝাতে সেই সন্ধ্যায় আমাকে অনেক বেগ পেতে হয়েছে!

কিন্তু সেটা অন্য কাহিনী।

*** মেয়েটার নাম আসলে মৌ নয়, অন্য আরেকটি নাম! আমাদের ৩৬০ এর একজনের নামের সংগে একদম মিলে যায়, সেজন্যই নামটা পালটে দিলাম! ইচ্ছে করেই!

*** চিঠিটা সম্ভবত পাশের ফ্লাট এর মেয়েটার। মামীর কাছেই শোনা, তার অধিকারে নাকি অনেকগুলো নাম... অনেকগুলো পাসপোর্ট কাছে থাকার মত!

বৃহস্পতিবার, ১২ জুন, ২০০৮

Entry for June 12, 2008

গতকাল সন্ধ্যার মরা আলোয়,

শাহবাগের ফুলের দোকানগুলোর সামনে দিয়ে

হেঁটে আসার সময়,

সুবাসে মাতোয়ারা ব্যক্তিটি আমিই ছিলাম, এরকম নিরস মানুষও

অজানা গন্তব্যের আশায় কিংবা আশঙ্কায়

নেচে উঠে। আত্মার আত্মীয়া খোঁজে, মনে মনে!

কিন্তু দুকদম বাড়তি এগিয়েই

আবার...

অফিস শেষে ঘরে ফেরা অসহ্য গরমে অতীষ্ট-বিরক্ত,

ঘর্মাক্ত শরীরে-পোষাকে

সেই ছা-পোষা নিপাট ভদ্রলোক!

সেটাও আমি।

যার চিন্তাগুলো আবার আবর্তন করে বৈষয়িক ভাবনায়!

-----------------------------------------------------------------------------

গতকাল শাহবাগ পুষ্পবিপণীর সামনে দিয়ে টিএসসি যাবার পথে, হঠাত করেই অনুভুতিটা হারিয়ে গিয়েছিলো। মনের গহীনে ভেসে ওঠা দুটি সরল বাক্যকে অবিন্যস্ত ভাবে ভেঙ্গেই লিখে ফেললাম! ভঙ্গুর এই শব্দসমষ্টিকেই অনেকেই নাকি গদ্যকবিতা বলেন। তবে এটি কবিতা নয়, প্রলাপ মাত্র! অনেক দিন কিছু লেখা হয়নাতো!

কিন্তু লেখাটা কী অদ্ভুত রকম বিচ্ছিরি হয়ে গেলো!

নেগেটিভ!



সকালে উঠেই মেজাজটা খিঁচড়ে গেলো!

যাবেই বা না কেন? সকাল সকাল অফিস যাবো বলে এলার্ম দিয়েছিলাম সকাল সাতটা পাঁচ এ! কিন্তু যন্ত্রধ্বণি বাজার পর বিছানায় এপাশ ওপাশ করে গড়িমসি করতে গিয়ে ১০ মিনিট লেট! আর সকালের ১০ মিনিট লেট মানে রাস্তায় আরো দুজায়গায় বাড়তি জ্যামে আটকে পড়া! অফিসে দস্তুরমত ৩০ মিনিট লেটফলশ্রুতিতে মাসিক মাইনেতে নেগেটিভ!

দিনটাই খারাপঅফিসে গিয়েই বসের ঝাড়ি ! কার মুখ দেখে যে উঠেছিলাম আজ? ও! মনে পড়েছে, হতভাগাটা আমিই ... আধবোঁজা চোখে রাজ্যের আলিস্যি নিয়ে বাথরুমের আয়নায় নিজেকেই দেখেছিলাম প্রথম! অকারণ ঝাড়ি খেলে মেজাজের পঞ্চমী আরো উপরে ওঠে! আর তাতেই ইন্সট্যান্ট ডাইরেক্ট একশন! মাথা ব্যাথা! কাজে অসংগতিআবার ঝাড়িআবার মাথাব্যাথার উচ্চাংগের আরোহন! অচ্ছেদ্য দূষ্টচক্র! ফলাফল আরো নেগেটিভ!

অনিবার্য কারণে অফিসে যাই ছেঁড়া স্যান্ডেল পরে আর বাজারে পায়চারী করি ব্রান্ড-শু পরে! ছেঁড়া স্যান্ডেলে পৈত্রিক প্রাণটা বেঘোরে নেগেটিভ হতে পারে, এই ভেবে একখানা নতুন চপ্পল কেনার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি কদিন ধরেই! সন্ধ্যার সময় রামপুরা বাজারে নেমে এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলে পাশের দোকানে গিয়ে নিজেকেই জুতোবো... সেই নিষ্পাপ ইচ্ছেটাও পুরণ হয়নাপ্রচন্ড গরমে এটিএম-বুথটারও ডি-হাইড্রেশন ঘটে! প্রতিদিন বিকালে হাসফাস করে জ্ঞান হারায় ওটা! আর আমি আসি সন্ধ্যায়! টাকা তোলাও হয়না আর চপল-পায়ে-চাপা হয়না! বাসায় গেলেও ইলেক্টিসিটি নেইদিনটাই নেগেটিভ!

ভগ্নহৃদয়ে রাস্তার ওপার থেকে এপার আসার সময় দানবীয় ট্রাকটাকে জ্যমিতিক এঙ্গেলে সাইড দিতে যাচ্ছি ... এমন সময়... সুললিত কন্ঠের এসএমএস ধ্বণি! ফ্রি এসএমএস এর ফ্রি শুভাকাংখা... শুভ সন্ধ্যা! বিশেষায়িত এমন একটা দিনের শেষে এসএমএসটা বিদ্রুপাত্মক হিসাবেই ধরা দিলো! হয়তো প্রেরকের ইচ্ছাটা ছিলো পজিটিভ! কিন্তু হাইপারটেনশনে নিজেকে আর সামলানো দূষ্কর হলো! কল-ব্যাক করলামফলাফল ততক্ষণাত... ব্যালান্স নেগেটিভ!

ও! একটা কথা বলা হয়নিআগের দিন কোয়ান্টামে স্বেচ্ছায় ব্লাড ডোনেট করে এসেছিলামএ নিয়ে হলো মাত্র আটবার! কাজটা একদম নিঃস্বার্থ ভাবেই করিএমনকি কাকে দিচ্ছি সেটাও জানতে ইচ্ছে করেনাকোয়ান্টামে ব্লাড দেবার একটা মস্ত সুবিধা আছে! ওরা দুয়েকদিনের মধ্যেই ব্লাড এর পাঁচটা গুরুত্বপূর্ণ রিপোর্ট পাঠিয়ে দেয়! আজ দুপুরে ই-মেইলের মাধ্যমে আসা ব্লাড রিপোর্টেও নেগেটিভ!

এইচ-আই-ভি নেগেটিভ!

*** এটা কয়েকদিন আগের পূর্ণদিনের স্বল্পদৈর্ঘ চিত্র মাত্র! ব্যস্ততা আর লোডশেডিং ... উভয়ই আমার উপর প্রভাব বিস্তার করায় একটু দেরী হলো!

মঙ্গলবার, ১৫ এপ্রিল, ২০০৮

বৈ-সা-বি ও অন্যান্য



বাংলা নববর্ষের সঙ্গে সঙ্গেই পার্বত্য অঞ্চলে শুরু হয়বৈ-সা-বিউতসব। ত্রিপুরাদেরবৈসুক’, মারমাদেরসাংগ্রাইআর চাকমাদেরবিঝু’ ... এই ত্রয়ের আদ্যাক্ষর মিলনেইবৈ-সা-বি

বুয়েট-জীবনের ক্লাসমেট আর বর্তমানের কলিগবাফরুমারমা সম্প্রদায়ের লোক। আমাদের অফিসে ছুটিছাঁটা নেহাত কম, তাই ও ছুটি জমিয়ে রেখেছিলো ... এ সময় টানা অনেক দিনের ছুটি নেবে বলে। কদিন ধরেই তার উতফুল্লভাবের সীমানা আকাশছোঁয়া ... কথায় কথায়, “ইয়ো ম্যান” !

সাংগ্রাইএর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলোপানি খেলাঅর্থাৎ জলের মধ্যে না নেমেই জলকেলী! প্রায় প্রতিটি তরুণ মারমা হৃদয়ই উথাল-পাথাল করে এই সময়টুকু জন্য! তরুণ-তরুণীরা সোল্লাসে পরস্পরের দিকে পানি ছুঁড়েদিশাহারাহয়!অনেক কিছুরইসূচনা হয় এই অনুষ্ঠান থেকে!

কিন্তু আমাদের বাফরু একটা পাড় হতভাগা! বেচারা চোখে দেখে একটু কম!

তাই প্রতিবারই কোনসুন্দরীযে ওর গায়ে পানি মেরে পার পেয়ে যায়, ও বুঝতেই পারেনা! আবার চশমা পরলেও আরেক সমস্যা, লেন্সের উপরে পানি পড়ে সেটাও ঝাপসা হয়ে যায়! ফলাফল একই ... বিফল!

তাই গত কয়েকদিন ধরেই ইন্টারনেটেল্যাসিক-চিকিৎসানিয়ে পড়াশুনা করলো সে। এইবার না হোক, অদূর ভবিষ্যতে পানি নিক্ষেপকারিণীকে হাতেনাতে পাকড়েপাণিপ্রার্থনা করতে পারবে সে!

***

লোকাল বাসের বদলে কাউন্টার সার্ভিস বাসগুলো এসেছে অল্প কদিন হলো... টিকিট কিনে লাইনে দাঁড়িয়ে আমরা বাসে উঠি। ব্যপারটা রেশনিং লাইনের মতই পুরনো।

কিন্তু ব্যস্ত পৃথিবীর অন্য জগতে ঘটনা একটু অন্যরকম। বাসের গেটেকার্ড-রিডারমেশিনের নির্ধারিত স্লটে পাঞ্চ কার্ড ঢুকালেই টাকা অটোমেটিকনাইহয়ে যায়! তবুও কাজটা নাকি ইফিসিয়েন্ট হয়না। পকেট থেকে মানিব্যাগ বের করতে হয়... সেখান থেকে পাঞ্চ কার্ড... কার্ডটা আবার যন্ত্রের পাকস্থলিতে পুরতে হয়...বদহজমশেষে কার্ডটা বের হয়ে আসলে আবার রিভার্স প্রোসেস! যে সময় প্রতি মিনিটে অর্থ প্রসব করে, সেই মূল্যবান সময়ের বাড়তি অপচয়!

চাই আরো আধুনিক ব্যবস্থা!

সেজন্যসময়ের-সঞ্চয়প্রচেষ্টায় এমন এক যন্ত্রের অবতরণ ঘটলো, যেটার সেন্সরের সামনেকার্ড-হজম্‌ডমানিব্যাগটা ধরলেই চলে। ব্যালান্স অটো রিডিউসড!

কিন্তু আমজনতা যুগের চেয়েও আধুনিক।

তারা মানিব্যাগ এগিয়ে দেয় ঠিকই... তবে প্যান্টের পকেট থেকে সেটা বের না করেই!

***

আমরা তো দুই ধরণের মুরগী খাই। কারো পছন্দহাড়-কটকটেদেশী মুরগী আবার কারো বাক্ষীণজন্মা ফার্মের মুরগি। বাজারে ফার্মের মুরগী যেমন সুপ্রাপ্য, তেমন দেশি মুরগীও।

আচ্ছা, দেশি মুরগী কি ফার্মে হয়না? নাহলে এত বেশি সরবরাহ হয় কিভাবে?http://us.i1.yimg.com/us.yimg.com/i/mesg/emoticons7/7.gif

***

১। উপজাতি/আদিবাসী শন্দ দুইটার ব্যাপারে আমার প্রায়োগিক আপত্তি আছে! তাই যথাযোগ্য শব্দ হিসাবেসম্প্রদায়ব্যবহার করলাম!

২. ক্ষীণজীবী বললাম, শোনা যায়... পরিবহনকালে অনাকাংখিত ভাবে বাসের টায়ার ফাটলেই গোটাকয়েক ফার্মের মুরগীর নাকি হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে অকাল প্রয়ান ঘটে!

Top of Form

Bottom of Form

Tuesday April 15, 2008 - 10:23am (BDT)

শনিবার, ২৯ মার্চ, ২০০৮

আজকের ব্লগ


অফিসে অন্যান্য সিনিয়রদের পেটের সম্মুখগামী স্তরীভুত চর্বির অবস্থান দেখে আমার ডিরেক্ট-বস মাঈনুল ভাই ডায়েট কন্ট্রোলে মনোযোগী হবার আপ্রান চেষ্টা চালাচ্ছেন! প্রায়ই সকালের নাস্তা বাদ দেন তিনি! অফিসে এসে, বাকি সবাইকে শর্করা জাতীয় খাবারে নিরুতসাহিতকরণও ইদানিং তার একটা শখ ! সেদিন আবার দেখলাম, নিমগ্নচিত্তে হার্বাল ওষুধের উপর পড়াশুনাও করছেন! আমি সকালে পরোটা-কেক খাই!

ইস্‌শিরে! এই সব জাংক ফুড যে মানুষ কেমনে খায়! তিনি আমাদের অজ্ঞতায় উষ্মা প্রকাশ করেন, ফ্রুটস খাও!

আপনি সকালে কি খেয়েছেন? সন্দেহ প্রকাশ করতেই হয়, কারণ উপদেশদাতার নিজের অবস্থান জানাটাও অত্যন্ত জরুরী!

আজ কিছুই খাইনি, আশ্বস্ত করেন তিনি, তবে কাল থেকে আঁশযুক্ত ফল খাবো! পেটও ভরবে, আবার স্বাস্থ্যকরও!

নারকেলের ছোবড়া খেয়ে দেখতে পারেন! আঁশগুলো মজবুত!, আমার বুদ্ধিটা বোধহয় তার খুব একটা পছন্দ হয়নি!

***

চাকরী সুবাদে এখন ব্যস্ততা বেড়েছে! আবার উত্তরার মত গ্রামাঞ্চলে থাকার কারণে অন্যদের সংগে যোগাযোগ অনেকটাই কমে গেছে! তাই বেশ কিছুদিন পর পর আত্মীয়স্বজন-বন্ধুদের সঙ্গে মোলাকাত হয়!

হায় হায়! তুমি দেখি শুকিয়ে একেবারে কাঠি হয়ে গেছো!, আমাকে দেখে সবারই প্রাথমিক প্রতিফলন এরকম!

কই? না তো? আমার তো মনে হয়, আমি ঠিকই আছি!, জবাবটাও আমার মুখস্ত!

না না! তুমি খুব শুকিয়ে গেছো। ওজন কত এখন? কত কমেছে?, প্রত্যেকেই কেন যেন হুবহু একই প্রশ্ন করে!

আমার ওজন কমেনি। আগে যা ছিলো তা-ই আছে! এখন ৭২ কেজি, নির্লিপ্ত গলায় বলার চেষ্টা করি! আর প্রশ্নকর্তাকেও চমকে দিই, আর, BMI ২৫ এর আশেপাশে!

হায় হায়! তুমি দেখি মোটা হয়ে যাচ্ছো! শীঘ্রই ওজন কমাও!, মিনিটখানেকের মধ্যেই প্রশ্নকর্তার বুঝি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বাগধারাটা স্মরণে আসে!

মুটিয়ে শুকনো কাঠি হয়ে যাচ্ছি আমি!

কি করি উপায়?

বৃহস্পতিবার, ১৩ মার্চ, ২০০৮

বেগে-আবেগে-ভীষণবেগে...




কে নাকি একবার বলেছিলো, কোন দেশ কতটা উন্নত সেটা নাকি বোঝা যায় তার পাবলিক টয়লেটের অবস্থা দেখে! একেবারে ‘ফর্মালিনযুক্ত’ খাঁটি কথা! এই দেশের কথা আর নতুন করে বলার দরকার আছে কি? পুরো ঢাকা শহরে সিটি কর্পোরেশনের আওতায় পাবলিক টয়লেটের সংখ্যা মাত্র ৩৪! আর সেগুলোর যা অবস্থা! “দূর্গম গিরি, কান্তার মরু” ও হয়তো পার হওয়া যায়কিন্তু ওইগূলোতে ঢুকতে হলে বুকে ‘হিম্মত’ লাগে আর নাকে এক বক্স সুগন্ধী রুমাল! তবে অবস্থা এখন অনেক ভালো ... শপিং এর ভান ধরে মার্কেটগুলোতে ঢু মেরে কাজটা সেরে আসা যায়! এত্তো এত্তো মার্কেট ঢাকা শহরে! সব আমাদেরই জন্য! তবুও, বুঝিনা... এর পরেও কেন যে “প্রকৃতির সন্তানেরা” এই ‘সিমেন্টের জঙ্গলে’ও “বাঁশঝাড়-থিওরী” এপ্লাই করে অকুস্থলেই “কম্মো” করে?! আল্লাহ তাদের সুমতি দিন! আর ... দয়া করে সায়েন্সল্যাব ফুটওভারব্রিজের উপরেই থাকবেন সবসময়!

ভাবছেন, এত বিষয় থাকতে এইটা নিয়ে ব্লগ লিখতে চাচ্ছি কেন? উহু! ব্যাপারটাকে হালকা করে নিলেই খাবেন ধরা! এজন্যই হয়তো, প্রখ্যাত টিভি উপস্থাপক ‘হানিফ সংকেত’ একবার তার ‘ইত্যাদি’তে একজন রাজনৈতিক নেতাকে দিয়ে পাবলিক টয়লেট উদ্বোধন করিয়েই ছাড়লেন! বিষয়টার হিউজ হাইজিনিক কনসার্ন তো একেবারেই অবিভাজ্য!

ফাইনাল ইয়ারে থিসিস করার সময় সবাই চমতকার সব বিষয় নিয়ে থিসিসে ঝাঁপিয়ে পড়লো! কিন্তু এক ছেলে, ম্যাডামের কাছে গোঁ ধরলো, “পাবলিক টয়লেটের উপরই কাজ করতে চাই!” ম্যাডাম তো মহা খুশি, “হমম! এই ব্যাপারে কাজ হয়েছে একটু কমতোমার আগ্রহ দেখে ভালো লাগছে। তো লেগে পড় ঝটপট!” ‘চাল্লু’টার উপর ম্যাডাম এতই খুশি ছিলেন যে, প্রেজেন্টেশনের দিন ‘রাগ্‌ড-ক্যাজুয়াল’ ড্রেসের প্রেজেন্টারও আয়েশে A+ বাগিয়ে নিলো! ছেলেটা নেট খুঁজে ‘আস্ত’ একটা থিসিসপেপার পেয়ে গিয়েছিলো এর উপর! আমাদের আফসোসটা ও বাড়লো সমানুপাতে! অন্য অনেক ‘উন্নত’ বিষয় নিয়ে থিসিস করে অনেক অনেক বেশি শ্রম দিয়েও গ্রেড ঊঠাতে বেগ পেতে হয়েছে আমাদের!

এদিকে অনেকে আবার ব্যস্ত সময়ে এই ‘প্রিয়’ জায়গাটাতে অনেক সময় কাটিয়ে দেন

অফিসে আমরা জামাত করে নামায আদায় করিজামাতের ওয়াক্ত এলেই একযোগে সবাই ‘একদিকেই’ সশরীরে ধাবিত হই! কিন্তু শরীফ সাহেব আগে ঢুকলেই কাহিনী প্যাঁচ খেয়ে যায় তখনি! বাইরে অপেক্ষা করতে হয় ... টাইম ডায়ালেশন ঘটে তখন! অস্বীকার করা অবান্তর, মাঝে মাঝে দরজাটা ভেঙ্গে ফেলতে ইচ্ছে করে!

আমার পিছনে লাইনে থাকা মোস্তফা ভাই প্রায়ই অসহিষ্ণু, “ভিতরে কে?”

আমি তড়িত জবাব দিই, “বার্লিন প্রাচীরের ওইপাশে শরীফ ভাই!”

“আসো! আমরা বার্লিন প্রাচীর ভেঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক পুন:প্রতিষ্ঠা করি!” বিপ্লবের ডাক তার কন্ঠে!

সভ্য সমাজ নাকি অনেক ভালো! কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের মত চমতকার সভ্য জায়গার অবস্থা শোচনীয় এরও নিচে! ‘ঢাবি’র কোন হলের টয়লেট নাকি এমনই অন্ধকার যে, আমার এক বন্ধু বললো, আগে টয়লেটে ঢুকে হাতড়িয়ে ইট খুঁজে তার উপর আলতোভাবে পা রাখতে হয়! এদিকের হলগুলোর কমন টয়লেটও মাঝে মাঝে ‘দূর্গম’ অঞ্চল হয়ে উঠতো “পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অংগ”--- এই ধরণের চমতকার কোটেশন দেয়ালে মেরে রেখেও যখন কিছু হচ্ছিলোনা, তখন সমস্যার আশু সমাধানে এক ‘গুনী’ টয়লেটের দরজার ভিতর দিকে প্রিন্ট-আউট কাগজে চিকা মেরে দিলো,

“কিছু ফেলে গেলেন কি?”

***

কার্টুনটা উন্মাদে সৌজন্যে

***

পুনশ্চঃ বুয়েটে এইসব নিয়ে ঢের পড়াশুনা করতে হয়েছে! ইঞ্জিনিয়ার হবার ঝক্কি অনেক! অনেক রকম ল্যাট্রিনের গঠন নিয়েও পড়তে হয়েছে! তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটা হলো, VIP-ল্যাট্রিনবলুন তো, VIP এর অর্থ কি হতে পারে? ১০-১২টা কমেন্টস এর পরেই উত্তরটা না হয় দিই?!