রবিবার, ২১ মার্চ, ২০১০

ভাবনা - ২১ মার্চ ২০১০

ভালো কিংবা খারাপ
হয়তো খারাপ বাদ দিলাম
পুরোটা খারাপ বাদ দিতে পারি কি?
পারিনা, তবে চেষ্টা করতে পারি।
চাই কি?

আর ভালো’র মধ্যেও
আরও কিছু বাদ দিতে হবে।
দিতে হবেই।
সময় অল্প...

শুধুমাত্র মাটি দিয়েই নাকি আদম সন্তানের চাহিদা পূরণ সম্ভব।

বৃহষ্পতিবার, ১৮ মার্চ, ২০১০

♫ ♫ ♫ ভালোবাসি বলেই ভালোবাসি বলিনা।

ভালোবাসি বলেই ভালোবাসি বলিনা।

.

দু’চোখের বরষ হয়ে মিশে আছো তাই

তোমারে খুঁজিতে তাই নয়ন মেলিনা

.

জীবন মরুভূমে একাকী তরুর মত

অসহায় শাখা মেলে আকাশে চেয়েছি কত

বরষার মত এলে

ভরে দিলে ফুলে ফলে

শিকড়ে মিশেছো বলেই তাই চলিনা।

.

নদী কুলু কুলু জানে

বনানীও মর্মরে

হৃদি জানে স্পন্দনও

আঁখি ঝরঝর ঝরে

ভাষাহীন ভাষা দিয়ে

হৃদয়ে ভরেছো হিয়ে

কথার ছলনা দিয়ে তাই চলিনা ...

.

ভালোবাসি বলেই ভালোবাসি বলিনা

দু’চোখের বরষ হয়ে মিশে আছো তাই

তোমারে খুঁজিতে তাই নয়ন মেলিনা।

.

[হৈমন্তি শুক্লা'র গান]

বৃহষ্পতিবার, ১১ মার্চ, ২০১০

♫ ♫ ♫ রাজশ্রী – ৪ ♫ ♫ ♫

আজ থেকে এক হাজার শীত-বসন্ত শেষে

এই পথেই যদি আসি আবার ...

সঙ্গে সেই স্মৃতি ভার

রঙচটা সেই গীটার

সেই অহংকার আগুন, সেই জোয়ার

হয়তো সব থাকবে সেই আগেকার মতই

পাবো কী দেখা রাজশ্রী তোমার? ...

হয়তো পথের ধারে, পাবো বারে বারে

আমার শৈশব কৈশোর মলিন

পাবো মায়ের আঁচল, প্রিয়া বধুর কাজল

অগভীর ধানসিঁড়ির দিন প্রতিদিন

থাকলে একলা চলা, নয়তো সঙ্গে বলা

থাকবে হাজার পাগলামী আমার

হয়তো সব থাকবে সেই আগেকার মতই

পাবো কী দেখা রাজশ্রী তোমার? ...

হয়তো সন্ধ্যা এসে, প্রকৃতির আদেশে

নিথর কৃষ্ণ নীল রঙ ছড়াবে

হরবোলা এক পাখি থামিয়ে ডাকাডাকি

হঠাৎ স্তব্ধতার গান শোনারবে

ফিরবো সেই পথেই আবার, সঙ্গে সাত সাগর বাধার

সঙ্গে সেই স্থির মন ঢেউ গোনার

হয়তো সব থাকবে সেই আগেকার মতই

পাবো কী দেখা রাজশ্রী তোমার? ...

আজ থেকে এক হাজার শীত-বসন্ত শেষে

এই পথেই যদি আসি আবার ...

[নচিকেতার গান]

রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১০

ফেসবুক স্ট্যাটাস ২০১০-০২-২৮

সেসব ব্যাপার পারিনা, জানিনা যতটা মনোকষ্ট দেয়; যেসব ব্যাপার পারি, জানি ততটা প্রশান্তি দেয়না কেন?

শনিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০১০

অছন্দিত গদ্য - ১

নানার মৃত্যুটা বেশ আকস্মিক ছিলো। শক্ত সমর্থ মানুষটা যখন বিনা নোটিশে কোন রোগ ভোগ না করে, কোন অ্যাক্সিডেন্ট না করেই অন্য জগতে চলে গেলো, তখন খানেকটা আশ্চর্যই হয়েছিলাম। শোকবোধ ততটা ছিলোনা। তখন পড়ি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদম শুরুর বছরে।

সেমিস্টার পরীক্ষা শেষ করে বাড়ি ফিরবার কথা ভাবছি। এমন সময় টেলিফোনে শুনি – তিনি নেই। নাহ, কাঁদিনি! ঘটনার বিহবলতা নাড়া দিয়েছিলো বটে। তখন রামপুরাতে ঢাকার বাসায় আব্বা থাকতো। আমাদের ফ্যামিলিতে যখন তখন চোখের পানি ফেলা ফ্যাশনের মত। আমি পারিনা তবু। মনে হয়, অশ্রু ফোটার অনেক দাম। সময় অসময়ে ব্যবহার করতে নেই।

বাসায় ফিরতেই আব্বা আমাকে দেখে কয়েক দফা দমকে কেঁদে নিলেন। হালকা হলেন আবারও। আমি পারলাম না। কাঁদতে পারলাম না।

শুনলাম, নানাবাড়িতে বড়মামা ছাড়া সবাই উপস্থিত। সে যে কোথায় থাকে কেউ জানেনা। অফিসের কাজে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে হারিয়ে যাওয়া নিত্যকার কাজ তখন। বাসায় কেন খোঁজ দাওনা? – এই প্রশ্নের জবাবে বলতো, ফোন না করা মানেই বুঝবে, ভালো আছি!

বাসে করে যখন কুষ্টিয়াতে ফিরি গভীর রাত তখন। আরিচা ফেরিঘাটে কোত্থেকে যেন বড়মামা এসে হাজির। খবর সেও পেয়েছে কিভাবে যেন! তার চোখেও পানি নেই। হৃদয়ে তো ছিলোই!

নানাবাড়ি যখন পৌছে যাই, গভীর রাত তখনও। সকাল হয়নি। সারা বাড়ি তখনও জাগা। প্রায় প্রত্যেকেরই পছন্দের মানুষটার জন্য শোক সবার শরীরে, চোখে! মা আমাকে দেখে হাউমাউ করে কেঁদে ফেললো। মায়ের কান্না আমি সইতে পারিনা। কেঁদে ফেললাম! নানার জন্য শোকে নয়!

পরদিনের জানাযা হলো তার। তাকে যখন মাটিতে শুইয়ে চাটাই দিয়ে আড়াল করে ফেলা হলো, তখনই দমকে থাকা কান্না উথলে উঠলো মনে। চোখের শ্রাবণ ধারা জানান দিলো –প্রিয় এক বন্ধুকে চিরতরে হারালাম!

বন্ধু হারাবার শোক আসলেই অনেক বড়!

আবার এক বন্ধুকে হারাবার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এবার মৃত্যু নয়। নিয়তি।

হয়তো!

হয়তো না!