মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর, ২০১০

রাত

অনেক দিন পরে একটা রাত কাটছে। যেটাতে ভালো লাগছে। সারাদিন অনেক ধকল গেছে। ২৯ তম বিসিএস এর ভাইভা ছিলো। পারিনি। সত্যিই পারিনি কিছুই। ভাইভাতে সব পারতে নেই। জানি। তারপরও মনে হচ্ছিলো পারবো। আগের রাতে এটা নিয়ে ভেবেছি অনেক, পড়িনি তেমন কিছুই এ'কদিনে অবশ্য।


ভাইভাতে পারলাম না কেন? প্রথম প্রশ্নটাই আমাকে এলোমেলো করে দেবার জন্য যথেষ্ট। অথচ, এটি নিয়ে ভাবছি বিগত তিন বছর ধরে। - ডঃ এনামের বোর্ডে ভাইভা দিলাম। তিনি বদরাগী মনে হয়। ঢুকে সালাম দিতে বললেন, গম্ভীর কেন? অথচ, আমি খুশি খুশি মনে। প্রশ্নটা ছিলো, তোমার এসএসসি আর এইচএসসি এর পর বিএসসি এর রেজাল্ট বিপরীতে মার্ক্স এর পারসেন্টেজের একটি স্ট্রেইট লাইন গ্রাফ আঁকো। একটু ভুল শুরুতে করলেও তা আঁকতে পারলাম। মোক্ষম প্রশ্ন তারপর, তোমার গ্রাফ তো নিম্নমুখী, একসময় তো জিরোতে গিয়ে ঠেকবে! তোমাকে কেন আমরা নেবো চাকরীতে?

কঠিন প্রশ্ন! কেন?
তোমাকে দুইমিনিট সময় দিলাম, এর মধ্যে ইংরেজিতে বলবে কিভাবে তুমি এটিকে উন্নত করতে পারবে।
পারিনি। এখনও চিন্তা করে পারছিনা। ভজঘটটা তখনও ঘটিয়েছি। এখনও কাটেনি।

যাইহোক, পোস্ট অফিসে চাকরী হয়েছে, সেই নোটিশ দেখেছি। ডাক ও টেলিযোগাযোগ করতে বলেছে, কার সঙ্গে বলেছে তা বলেনি। গেলাম, ঘুরলাম আর বুঝলাম কেন মানুষ সরকারী অফিসকে ঘৃণা করে। আর ২৮ তম বিসিএস এর নন-ক্যাডার হিসাবে সেখানেই জয়েন করতে যাচ্ছি! অদ্ভুত বৈপরীত্য। নাহ-এত নিচু হও্য়া সম্ভব হবেনা আমাকে দিয়ে। মানুষের সঙ্গে এ ধরণের ব্যবহার আমাকে দিয়ে হবেনা মনে হয়।


----
ধুর... কি লিখতে চাইলাম। আর হচ্ছে ফালতু।

লেখালেখিতেও ডাব্বা!
স্টিভ জবসের ভাষণেও উদ্দীপ্ত হতে পারলাম না!
---
কাল অফিস। কিন্তু রাতে আজ ঘুমুতে ইচ্ছে করছেনা। কখনও সারা রাত জেগে পরের দিন অফিস করিনি। আজ ইচ্ছে। মাত্র চারটা আঠারো বাজে। দেখা যাক।

লুইজিয়ানাতে ভাগ্য খুব খারাপ না থাকলে এডমিশন হয়ে যেতে পারে। কিন্তু যাবো কি? বিয়ে করবার ইচ্ছেও ছিলো। ঠিক যেভাবে চাও্য়া হচ্ছে, সেভাবে নয়। কিন্তু কিভাবে বুঝাই। তাই, দোষ সব নিজের ঘাড়েই নেই। তারা তিনজন হয়েই থাকলাম। একজন হলাম না।

মা-কে রেখে যাওয়াটা একটা বড় নিয়ামক এই সিদ্ধান্তের। রেখে যাবো নাকি থাকবো? দেশেই তো থাকতে চাই। কিন্তু, দু'দিন ঘুরাঘুরি করে সেই সাধ মিটে যাচ্ছে। বন্ধু, যে বুয়েটের প্রফেসর, তার মুখেও হতাশা! বুয়েট- আমার তীর্থস্থান। একটা জায়গা কিভাবে মানুষের সব মন খারাপ লাগা শুষে নেয়? এই প্রেমের শেষ কোথায়? আচ্ছা, কোনভাবে আমার কবরটা সেখানে হলে কেমন হতো? ক্যাফেটেরিয়ার সামনে যে শহীদদের কবর আছে, ওগুলো দেখলে আগে মনে হতো, আমি এখানে থাকলেও মন্দ হতোনা। তবে, বুয়েট তার মান হারাচ্ছে। একদিন হয়তো, এর পরিচয় দিতেই অনেকে লজ্জাবোধ করবে।

একটু আগে সামহোয়ারইনে শাহরীয়ার নির্জনের পিএইচডি এর ব্লগ পড়লাম। অনেক হাঙামা। কিন্তু, কেন জানি এটা করতে ইচ্ছে করে। আবার নির্ঝঞ্ঝাট জীবনেরও খুব ইচ্ছে। এমন একটা বড় ডিসিশনের সামনে দাঁড়িয়ে আছি, ভাবতেই কেমন জানি লাগে! মানুষের জীবনের সমস্যা থাকবেই। প্রত্যেকেই নিজের সমস্যাটাকে সবচেয়ে বড় মনে করে। আমি কেন আর ব্যতিক্রম হই? ব্যতিক্রম কি ভালো? সবসময়? গড্ডালিকায় গা ভাসালে হয়তো আখেরে টু-পাইস জমতো।

টাকা কামাতে হন্যে হয়ে ছুটতে ভাল লাগেনা। এই লোভটা কিভাবে জাগাই?

লাইফে মোটিভেশন পাচ্ছিলাম না। কারও মোটিভেশন টাকা, কারও ক্ষমতা কারও শুধুই পরকাল। আমার কোনটাতেই সেভাবে আঁকড়ে থাকতে ভালো লাগেনা। আমার চাই মোটামুটি সম্মানে সামান্য ভাবে জীবন চলে যাওয়া। তবুও, শুধু পিএইচডি ডিগ্রীটা ডাকছে।

আমি আগে তো এমন ছিলাম না। সব কিছুতেই নেগেটিভ খুঁজে পাই।
সিনিক্যাল।

কেউ যখন সবকিছুই পজিটিভ খুঁজে পায়- দারুণ। তখন, অপরাধবোধে কুচকে যাই! আচ্ছা, আমার অপরাধবোধ এত বেশি কেন? খুব বেশি কি অপরাধ করি?

অনেক আগে থেকেই ডান পায়ের তলাতে একটা অনুভূতি হয়। একধরণের অবিশ্বাসী অনুভূতি।
বেশিরভাগ মানুষের বৈশিষ্টই বোধহয় নিজে ভালো না হয় অন্যের কাছে ভালো আশা করা। এবারও ব্যতিক্রম নই। আহ, আমি নাকি বিশুদ্ধ! শুনতে কি যে ভালো লেগেছিলো, আরও অহংকারী করেছিলো আমাকে।

অহংকার।
আমি অহংকারী।
প্রচণ্ড অহংকারী।
যা নেই, সেটি নিয়ে।
অহংকারের এই অদ্ভুত ব্যাখ্যাটা নিয়ে লেখবার ইচ্ছে আছে একদিন।
কি লিখবো?

আমি নাকি ইমম্যাচিউর্ড। আচ্ছা, আমি আর কি কি?
শফিক নাকি খুব ম্যাচিউর্ড, তাই আমার বোন তাকে পছন্দ করেছিলো। কি থাকলে তাকে ম্যাচিউর্ড বলা যায়?
জানিনা।
যে আমাকে ইমম্যাচিউর্ড বললো, তাকেই আরেকজন বললো, ও ই তো ইমম্যাচিউর্ড। ও ম্যাচিউর্ড হলে অনেক বিপদ হতে আমরা রক্ষা পেতাম হয়তো।

ডায়রী লেখার অভ্যাস নেই। তবে সেটা পোষার অভ্যাস আছে।
আচ্ছা, তোমার দিল-লজিক ফেইল মারবে?

"রাত্রি নেমেছে, আমার মত"

---
ভাবতে অবাক লাগে, একসময় লিখতে পারতাম!

1 টি মন্তব্য: